Date: April 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / বিশেষ নিবন্ধ / ধর্ম শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিপক্ষ নয় বরং পরিপূরক - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ধর্ম শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিপক্ষ নয় বরং পরিপূরক

April 12, 2026 12:14:22 PM   অনলাইন ডেস্ক
ধর্ম শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিপক্ষ নয় বরং পরিপূরক

ওবায়দুল হক বাদল:
মানুষ মননশীল প্রাণী। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করে যেমন দেহের চাহিদা মেটাতে হয়, তেমনি মনের চাহিদাও মেটাতে হয় তাকে। মনের চাহিদা মেটাতে মানুষ প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা করে আসছে। যা মানুষের মনে প্রশান্তি যুগিয়েছে, আত্মার খোরাক হিসেবে কাজ করেছে।

ধর্মের সাথে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিরোধ নেই। প্রকৃত ইসলামে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা নিষিদ্ধ তো নয়ই বরং একে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামে সংস্কৃতি চর্চার স্বরূপ কী, সুস্থ সংস্কৃতির মানদণ্ড কী, সংস্কৃতি চর্চার নামে অশ্লীলতা, কদর্যতা যা সভ্য সমাজকে পশ্চাৎগামী করছে সে ব্যাপারে করণীয় কী ইত্যাদি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার প্রয়াসে এই লেখা।

শিল্প-সংস্কৃতি ও ইসলাম
ইতিহাস থেকে যতগুলো সভ্যতার কথা আমরা জানতে পারি, সবগুলোরই প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে ধর্ম ছিল প্রধান নিয়ামক। আর শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ছিল প্রত্যেক সভ্যতার অপরিহার্য অঙ্গ। তাই ধর্ম কখনও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিপক্ষ হতে পারে না, বরং তারা একে অপরের পরিপূরক।

কিন্তু আমরা বাস্তবে দেখি আমাদের সমাজের এক শ্রেণীর আলেম দাবিদাররা ওয়াজ মাহফিলে ফতোয়া দেন যে, গান গাওয়া, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি আঁকা, ভাস্কর্য তৈরি করা, অভিনয় করা, নৃত্যচর্চা করা ইত্যাদি সব হারাম, পহেলা বৈশাখে মেলায় যাওয়া হারাম, নবান্ন উৎসব করা হারাম, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হারাম, জন্মদিন পালন করা হারাম, টিভি দেখা হারাম, সিনেমা-নাটক দেখা হারাম ইত্যাদি ইত্যাদি। বিষয়টি এই ফতোয়ার মধ্যেই সীমিত থাকে না। অনেক সময় এসব ফতোয়া বাস্তবায়ন করার জন্য ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে হামলাযজ্ঞও চালানো হয়।

কিন্তু বাস্তবেই কি ইসলাম যাবতীয় শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতিপক্ষ?
এটা জানতে হলে প্রচলিত ফতোয়ার উপর থেকে অন্ধবিশ্বাস একপাশে সরিয়ে রেখে ইসলামের মূল গ্রন্থ কোর’আন এবং রসুলাল্লাহর আদর্শের (সুন্নাহ) দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে এবং নিজেদের আল্লাহপ্রদত্ত যুক্তি ও বিচারবুদ্ধি-বিবেককে কাজে লাগাতে হবে।

মুসলিম ফিকাহ এবং আইনশাস্ত্রের এক মূলনীতি এই যে, যা হারাম করা হয় নি বা অবৈধ ঘোষণা করা হয় নি তা হালাল, তা বৈধ।  

আর আল্লাহর বাণী হচ্ছে কোর’আন যা অবিকৃত রয়েছে এবং থাকবে। রসুলাল্লাহর (সা.) নামে অগণিত জাল হাদিস বাজারে চালু আছে, কিন্তু কোর’আনের একটি আয়াতও জাল করা সম্ভব নয়। তাই কোর’আন হচ্ছে ইসলামের নামে প্রচলিত যে কোনো ধারণাকে মূল্যায়ন করার মানদণ্ড।  

আল কোর’আনের দৃষ্টিতে সঙ্গীত চর্চা
আল্লাহ বলেন, “আপনি বলে দিন: আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, হারাম করেছেন আল্লাহর নাফরমানি, অন্যায়-অত্যাচার চালানো, আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোনো সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জানো না (সুরা আরাফ ৩৩)।

লক্ষ করুন, এখানে তিনটি বিষয়কে হারাম করা হচ্ছে। এক- অশ্লীলতা। দুই- আল্লাহর নাফরমানি অর্থাৎ আল্লাহর সুস্পষ্ট বিধানের লংঘন করা, তিন- আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। এই মানদণ্ড মাথায় রেখে যে কোনো কাজ, সেটা শিল্পচর্চা হোক কিংবা দৈনন্দিন জীবনের যে কোনো কাজই হোক তা ইসলাম পরিপন্থী বা নাজায়েজ কাজ হতে পারে না।  

তথাপি দীনের অতিবিশ্লেষণ করে সুরা লোকমানের ৬ নম্বর আয়াতকে সঙ্গীতের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়। সুরা লোকমানের ৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অজ্ঞানতাবশত ‘লাহওয়াল হাদীস’ (অনর্থক, অবান্তর, অসার, অপ্রয়োজনীয় গল্পগুজব বা বাক্য) সংগ্রহ করে এবং আল্লাহর পথকে হাসি-তামাশারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।” এখানে আল্লাহ সঙ্গীত শব্দটিই বলেন নি, বলেছেন অসার কথাবার্তা। অথচ ‘লাহওয়াল হাদীস’ শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা বলছে- এটা দ্বারা গান-বাদ্য ও কবিতাকেই নির্দেশ করে। এই অতিব্যাখ্যা, অপব্যাখ্যা করে গান-বাদ্যকে হারাম করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামী গবেষক ও বহু গ্রন্থের লেখক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক মহা পরিচালক এ জেড এম শামসুল আলম তার ‘মুসলিম সঙ্গীত চর্চার সোনালি ইতিহাস’ গ্রন্থে উক্ত আয়াতের ব্যাপারে একই মত প্রকাশ করেছেন। ওপরের আয়াতে যদি সঙ্গীতের নিষেধাজ্ঞাই উদ্দেশ্য হতো, তবে গানের অর্থবোধক আরবি শব্দ যেমন ‘গিনা’ বা ‘সামা’, ‘নাগমা’ প্রভৃতিই ব্যবহৃত করতেন আল্লাহ।”

সঙ্গীতের বাণী তো শিক্ষামূলকও হতে পারে, সুন্দর সমাজ ও মানবতাবোধের বাণীও সঙ্গীতে ধ্বনিত হতে পারে। সঙ্গীত বা সুর যদি মন্দ কিছুই হবে তাহলে আজান কেন সুর করে দেওয়া হয়? কোর’আন কেন সুর করে পড়া হয়? ওয়াজ কেন সুর করে করা হয়? -এ প্রশ্ন জাগা খুবই প্রাসঙ্গিক। তাছাড়া আসমানি কেতাববাহী প্রধান চারজন রসুলের অন্যতম দাউদ (আ.) এর মো’জেজাই ছিল তাঁর সুরেলা কণ্ঠ। তিনি হার্প (Harp) নামক বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন, যার ছবি ঐ সময়ের মুদ্রাতেও অঙ্কিত ছিল। তিনি বলতেন, On the harp I will praise you o God (Old Testament – Psalm 43.4)

মহানবীর যুগে যেসব সঙ্গীতযন্ত্র ব্যবহৃত হতো
মহানবীর যুগে কতকগুলো সঙ্গীতযন্ত্র ব্যবহৃত হতো। তার মধ্যে অন্যতম ছিল দফ ও তাম্বুরা। তাঁর সম্মুখে যখন এসব বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান করা হতো তখন তিনি তা নিষেধ করেন নি বরং উপভোগ করেছিলেন। রসুলাল্লাহর (সা.) উপস্থিতিতেও মদীনায় সাহাবীদের বিয়ে শাদি বা অন্য যে কোনো উৎসবে দফ বাজিয়ে গান গাওয়া হতো।

রসুলাল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, তোমরা এই বিবাহের ঘোষণা দাও। এটা মসজিদে সম্পন্ন করো এবং বিবাহ উপলক্ষে দফ বাজাও। -ইবনে মাজাহ হাদিস নং- ১৮৯৫, তিরমিযী হাদিস নং- ১০৮৯

আরেকটি হাদিসে রসুল (সা.) এরশাদ করেছেন- হালাল ও হারামের মাঝে পার্থক্য নির্ণয়কারী হলো- বিয়ের সময় দফ বাজানো এবং তা জনসম্মুখে প্রচার করা। -(তিরমিযী হাদীস নং- ১০৮৮; নাসাঈ হাদীস নং- ৩৩৬৯; ইবনে মাজাহ হাদীস নং -১৮৯৬)

রসুলাল্লাহর (সা.) নারী সাহাবি রুবাই বিনতে মুআব্বিয ইবনু আফরা (রা.) বলেন, “আমার বাসর রাতের পরের দিন নবী (সা.) এলেন এবং আমার বিছানার ওপর বসলেন, যেমন বর্তমানে তুমি আমার কাছে বসে আছ। সে সময়ে মেয়েরা দফ বাজাচ্ছিল এবং বদর যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্ত আমার বাপ-চাচাদের শোকগাঁথা গাচ্ছিল। তাদের একজন গাচ্ছিল, আমাদের মধ্যে এক নবী আছেন, যিনি ভবিষ্যৎ জানেন। তখন রসুলুল্লাহ্ বললেন, এ কথাটি বাদ দাও, আগে যা গাইছিলে তাই গাও (সহিহ বোখারী, হাদিস নং ৫১৪৭)।” লক্ষ করুন, এখানে রসুলাল্লাহ (সা.) মেয়েদেরকে গান গাইতে বারণ করলেন না, কিন্তু তাঁর ব্যাপারে একটি মিথ্যা ধারণা তিনি সংশোধন করে দিলেন।

রসুলাল্লাহ যখন হেজরত করে মদিনায় এসে পৌঁছান তখন তাঁকে বরণ করে নেওয়ার জন্য আনসার নারী পুরুষ শিশু কিশোর নির্বিশেষে দফ বাজিয়ে “তালা-আল বাদরু আলাইনা - ‘মিনসানইয়াতুল বিদা’ গানটি গাইতে থাকেন। গানটি আজও মিলাদের সময় গাওয়া হয়।

মদিনায় এসে মসজিদে নববী নির্মাণের সময় আল্লাহর রসুল (সা.) স্বয়ং গান গেয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও গান গেয়েছিলেন। এই গানের নাম হচ্ছে রাজস্। আনাস (রা.) বলেন, রসুলাল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিগণ মসজিদ নির্মাণের সময় খেজুর গাছগুলোকে কেবলার দিকে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করলেন। চৌকাঠের দুই বাহুতে স্থাপন করলেন পাথর। রসুলাল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা তখন ‘রাজস্’ তথা কর্মসঙ্গীত গাচ্ছিলেন। তাঁরা বলছিলেন, হে আল্লাহ! আখেরাতের মঙ্গলই প্রকৃত মঙ্গল। আপনি সাহায্য করুন আনসার ও মোহাজিরদের। - (বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ।) সুতরাং সৎকাজের উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য গান গাওয়াকে রসুলাল্লাহর সুন্নাহ বললেও অত্যুক্তি হবে না।

আমাদের ধর্মীয় অঙ্গনে যুক্তিবুদ্ধির চর্চা এতটাই উঠে গেছে যে, এক শ্রেণির মুফতি এও বলে থাকেন যে, সব বাদ্যযন্ত্র হারাম, কেবল দফ হালাল, কারণ সাহাবিরা দফ বাজাতেন। প্রকৃত বিষয় হলো, সে যুগে আজকের মতো এত সব বাদ্যযন্ত্র ছিল না, ছিল কেবল দফ, তাম্বুরা ইত্যাদি। সেগুলোই তারা বাজাতেন। সুতরাং আল্লাহ যেমন সঙ্গীত হারাম করেন নি, তেমনি রসুলাল্লাহও (সা.) সঙ্গীত চর্চাকে নিষিদ্ধ করেন নি।

অন্যান্য শিল্পচর্চা
ইসলামের বৈধ-অবৈধের মূলনীতি মেনে চললে যে কোনো শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাই জাতির জন্য কল্যাণকর হয়ে উঠতে পারে। আল্লাহর অবাধ্যতা, অশ্লীলতা ও মিথ্যার বিস্তার না ঘটিয়ে ছবি আঁকা, ভাস্কর্য নির্মাণ করা, নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণ ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায় নয়।

কোরআনে সুরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তারা (নির্মাণশ্রমিকরা) সোলায়মানের (আ.) ইচ্ছানুযায়ী উপাসনালয় ও দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউজসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত।” আল্লাহ সকল নবীদেরকে পাঠিয়েছেন শেরেকের বিরুদ্ধে। তাঁরা সবাই এর বিরুদ্ধে ছিলেন। যদি ভাস্কর্য শেরেক হতো তাহলে নবী সোলায়মান (আ.) ভাস্কর্য নির্মাণ করতেন না।

শেষ নবীর ইসলামেও যে ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিল না তার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তও রয়েছে। আবু বকর (রা.) এর শাসনামলে আমর বিন আসের (রা.) মিশর অভিযানের পরও ফারাওদের তৈরি স্ফিংসসহ বিভিন্ন ভাস্কর্য অক্ষত রেখেছিলেন। খ্রিষ্টানদের চার্চের জন্য তিনি নিজে যিশুর মূর্তি গড়ে দিয়েছিলেন। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের (রা.) ইরাকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সময়ও সেখানকার কোনোও ভাস্কর্য মূর্তি ভাঙ্গা হয়নি। ভাঙা হয়নি বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তিও। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগে তালেবানরা বোমা মেরে সেই মূর্তিগুলো গুড়িয়ে দিয়েছে।

মুসলমানদের জন্য মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ, তাই বলে অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতিমা ভেঙে ফেলতে হবে এমন কোনো হুকুম আল্লাহ দেন নি। উপাস্যে পরিণত করা না হলে কোনো মহান ব্যক্তির ভাস্কর্য নির্মাণকেও ইসলাম হারাম করে না। 

তাছাড়া খেলার উদ্দেশে তৈরি মানুষ বা জীবজন্তুর পুতুলের উপরও রসুলাল্লাহর (সা.) কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এমন কি তাঁর ঘরেও এ জাতীয় খেলনা মানবাকৃতির পুতুল ও পক্ষীরাজ ঘোড়ার পুতুল ছিল বলে জানা যায় (আবু দাউদ, বায়হাকি)।

আম্মা আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত- ‘আমি রসুলাল্লাহ (সা.) এর উপস্থিতিতে পুতুল দিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলত। যখন রসুলাল্লাহ (সা.) আসতেন তখন তারা লুকিয়ে যেত। কিন্তু নবী (সা.) তাদেরকে ডাকতেন এবং খেলায় অংশগ্রহণ করতে বলতেন। -সহিহ বুখারি, কিতাবুল আদব, অধ্যায়: ৭৩, হাদিস: ১৫১  

মক্কাবিজয়ের দিন কাবা ঘর থেকে যখন সকল দেবদেবীর মূর্তিগুলো অপসারণ করা হয়, তখন কাবার দেওয়ালে আঁকা অনেক দেবদেবীর ছবিও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। সেখানে ঈসা (আ.) ও মা মরিয়মের (আ.) একটি যুগল ছবি অঙ্কিত ছিল। রসুলাল্লাহ (সা.) সেই ছবিটা নিজের পবিত্র হাত দিয়ে ঢেকে রেখে বলেছিলেন, এই ছবিটা ছাড়া বাকি সব ধুয়ে মুছে ফেল। (সিরাত ইবনে ইসহাক)।

সংস্কৃতি মানুষের জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য অঙ্গ। একে বাদ দিয়ে কোনো জীবনব্যবস্থাই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। বরং সংস্কৃতি চর্চার মধ্যেও মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য যে গান গাওয়া হবে তা জেহাদ হিসেবে, এবাদত হিসাবে পরিগণিত হবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল সঙ্গীত। ২০০৪ এ ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানেও আমরা তা-ই দেখেছি।