


বিশ্ব মা দিবসে সন্তানের জন্য ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার এক মা। কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত ছেলে নাসিম জাহান আকাশকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছেন মা নাসিমা সুলতানা।
এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনায় জাজিরাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এই গল্প ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা পৌরসভার উত্তর বাইকশা এলাকার বাসিন্দা নাসিম জাহান আকাশ প্রায় ৯ মাস ধরে গুরুতর কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। একপর্যায়ে তার দুটি কিডনিই প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে পরিবার নানা চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তার মা নাসিমা সুলতানা।
নাসিমা সুলতানা পেশায় একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মা দিবসেই ঢাকার শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে মা-ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের খ্যাতিমান কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ অস্ত্রোপচার পরিচালিত হচ্ছে।
আকাশের বড় বোন বৃষ্টি বলেন, “মা দিবসে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপহারটি আমার মা দিচ্ছেন। নিজের শরীরের অংশ দিয়ে তিনি আমার ভাইকে নতুন জীবন দিচ্ছেন। সবাই মা ও ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।”
প্রতিবেশীরা বলছেন, সন্তানের জন্য একজন মা কত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, এই ঘটনা তারই জীবন্ত উদাহরণ। স্থানীয় শিক্ষক সমাজও নাসিমা সুলতানার এই আত্মত্যাগকে গর্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি সমাজকে মানবতা ও মমত্ববোধের এক অনন্য শিক্ষা দিলেন।
এদিকে মা দিবসে এমন আবেগঘন ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখছেন— পৃথিবীতে মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না।
বর্তমানে মা ও ছেলে দুজনের সুস্থতা কামনা করছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।