Date: May 14, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / বরিশাল / পটুয়াখালীতে জোরপূর্বক জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে পাউবোর বিরুদ্ধে মামলা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকা...

পটুয়াখালীতে জোরপূর্বক জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে পাউবোর বিরুদ্ধে মামলা

May 14, 2026 05:45:34 PM   অনলাইন ডেস্ক
পটুয়াখালীতে জোরপূর্বক জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে পাউবোর বিরুদ্ধে মামলা

জুবায়ের আহমেদ:
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় জমি দখল, গাছ কাটা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মিঠাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ হাওলাদারের মালিকানাধীন প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং মাটি কেটে ভেরীবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা জেলা শহরে বসবাস করার সুযোগ নিয়ে এই কাজ করা হয়েছে।

আব্দুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ৫ মে রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা লোকজন নিয়ে তাদের জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। তারা মাটি কেটে রাস্তা তৈরি করেন এবং তাদের রোপণ করা গাছ কেটে ফেলেন। এতে তাদের প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান যে ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, রাতের বেলা মেশিন নিয়ে এসে ওই জমিতে কাজ করা হয়েছে। তারা গাছ কাটতেও দেখেছেন। এলাকাবাসীর মতে, লতিফ হাওলাদারের জমিতে বাঁধ তৈরি করার আগে তার অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। ভেকু মেশিন দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছরের একটি বাগান নষ্ট করার ধরণ দেখে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, মালিক না থাকার সুযোগ নিয়ে এই অনিয়ম করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ হাওলাদার বলেন, তার জমিতে ভেরীবাঁধ নির্মাণ বা মাটি কাটার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ধরণের অনুমতি নেয়নি। এই বড় ক্ষতির সঠিক বিচার দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখছেন। প্রকল্পের কাজ কোথায় এবং কীভাবে হয়েছে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। যদি ব্যক্তিগত জমিতে কাজ করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পটুয়াখালী সদর থানা কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।