


দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ব্যতিক্রমী এক ঘুম প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, যেখানে শতাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে চমকপ্রদভাবে বিজয়ী হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। ব্যস্ত নগরজীবনের মানসিক চাপ ও ঘুমের সংকটকে সামনে এনে এই আয়োজন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
‘হানগাং ন্যাপ কম্পিটিশন ২০২৬’ নামে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় সিউলের হান নদীর তীরবর্তী ইয়োয়িদো হানগাং পার্কে। শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে এই প্রতিযোগিতা, যেখানে অংশ নেন শতাধিক প্রতিযোগী।
সিউল সিটি কর্তৃপক্ষ তৃতীয়বারের মতো এই আয়োজন করে মূলত শহুরে জীবনের চাপ, ক্লান্তি এবং ঘুমের অভাবের বিষয়টিকে সামনে আনার জন্য। প্রায় ১৭০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করে প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিযোগীদের জন্য যোগ ম্যাট, বিনব্যাগ এবং ক্যাম্পিং চেয়ারের মতো আরামদায়ক ব্যবস্থা রাখা হয়।

প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল কঠোর। অংশগ্রহণকারীরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় জেগে উঠলে, দাঁড়িয়ে গেলে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে বা কোনো শব্দ করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হতো। বিচারকেরা অংশগ্রহণকারীদের হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করেও গভীর ও স্থির ঘুম মূল্যায়ন করেন।
এ বছরের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিযোগীদের সৃজনশীল পোশাক। কেউ রাজকীয় পোশাকে, আবার কেউ প্রাণীর রূপে উপস্থিত হন, যা পুরো পরিবেশকে আরও রঙিন করে তোলে।
প্রতিযোগীদের মধ্যে একজন ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনা ও খণ্ডকালীন কাজের চাপের কারণে তিনি দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন, তাই নিজের “ঘুম দক্ষতা” পরীক্ষা করতেই তিনি অংশ নেন। অন্যদিকে, ২৪ বছর বয়সী এক ইংরেজি শিক্ষিকা ইনসমনিয়ার সমস্যার কথা জানিয়ে কোয়ালার পোশাকে অংশ নেন, আশা করেছিলেন এতে ঘুম কিছুটা সহজ হবে।
সবশেষে, সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তার শান্ত ও দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমিয়ে থাকার দক্ষতা বিচারকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও উচ্চ চাপের জীবনযাত্রার কারণে ঘুমের সমস্যা একটি বড় সামাজিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের আয়োজন সেই বাস্তবতাকেই প্রতীকীভাবে তুলে ধরে।
সিউল সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘রিডিং অ্যাট হানগাং পার্ক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে মানুষ প্রকৃতির মাঝে সময় কাটিয়ে মানসিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইয়াহু নিউজ, সিএনএন, রয়টার্স