


দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক সহায়তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের প্রায় ১ লাখ প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে উন্নত মানের স্কুল জুতা দেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে। সরকারের এই উদ্যোগকে শিশুদের জন্য শুধু সহায়তা নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত শিক্ষাসহায়ক কর্মসূচি হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত জুতা সরবরাহের লক্ষ্যে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রথম ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে জুতা দেওয়া হবে। এতে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে। তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার চায় এই কর্মসূচি শুধু জুতা বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের জন্য একটি সম্মানজনক ও সমন্বিত সহায়তা ব্যবস্থায় পরিণত হোক। এজন্য জুতার মান, নকশা, আরাম ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি জুতার গুণগত মানে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোনো শিশু উন্নতমানের জুতা পেলে আরেকজন নিম্নমানের জুতা পেলে সেটি বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই সব প্রতিষ্ঠানের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও অভিন্ন মান নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ লক্ষ্যে টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। এই কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, লেদার ইন্সটিটিউট, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ এবং সহযোগী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া জুতার ডিজাইন, গুণগত মান যাচাই, সার্টিফিকেশন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হবে।