


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশজুড়ে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনের সূত্রাপুর থানার ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত এক রাজনৈতিক জনসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি উন্নত দেশ গড়তে শুধু ভোট দেওয়া যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি নাগরিককে সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রগঠনের কাজে অংশ নিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে দেশের বহু মানুষ আত্মত্যাগ করেছে এবং অনেকে গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। যে শাসনব্যবস্থা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, জনগণের প্রতিরোধে তা টিকে থাকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-৬ আসনের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় একটি আধুনিক হাসপাতালের প্রয়োজন রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্থানীয় হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোসহ চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজধানীর প্রাণ বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নদীটি যেন আবার সবার গর্বের প্রতীক হয়ে ওঠে, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতার গুরুত্ব উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো রাজনৈতিক দল নেই, যাদের দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতীতের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভুল নীতির কারণে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, ইতিহাস তার প্রমাণ।
তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা আশ্বাস দিয়েছেন—বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে বড় আকারের বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একমাত্র বিএনপিই জনগণের সামনে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গড়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।