Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / ভারতকে নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন নিকি হ্যালি - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ভারতকে নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন নিকি হ্যালি

August 21, 2025 10:27:03 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতকে নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন নিকি হ্যালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারত–মার্কিন সম্পর্ক গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্বাভাবিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল কারণ, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ ও শুল্ক নীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। এর আগে আবার ভারতীয় পণ্যের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক বসানো হয়েছিল। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক যখন অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে, তখনই সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও রিপাবলিকান নেতা নিকি হ্যালি হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন।

আমেরিকার জনপ্রিয় সাময়িকী নিউজউইক-এ প্রকাশিত এক উপ-সম্পাদকীয়তে হ্যালি সতর্ক করে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন—
“ভারতকে কখনোই চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা উচিত নয়। বরং ভারতকে গণতান্ত্রিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে চায়, তবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা ছাড়া বিকল্প নেই।

শুধু শুল্কনীতি নয়, ভারত–পাকিস্তান সংঘাত নিয়েও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের সম্ভাব্য “পারমাণবিক যুদ্ধ” ঠেকানো গেছে। কিন্তু নয়াদিল্লি সেই দাবি নাকচ করেছে। ভারতের অবস্থান পরিষ্কার—
“দুই দেশের মধ্যে বিরোধ মেটাতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে একই বার্তা দিয়েছেন।

নিকি হ্যালি তার লেখায় সতর্ক করেছেন, কূটনৈতিক এই দ্বন্দ্ব যদি অচিরেই সমাধান না হয় তবে ওয়াশিংটনের জন্য তা কৌশলগত বিপর্যয় ডেকে আনবে। তার ভাষায়—
“এশিয়ায় চীনের আধিপত্য ঠেকাতে পারে একমাত্র ভারত। তাই ২৫ বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে ধ্বংস করা হবে মারাত্মক ভুল।” তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য যদি হয় চীনকে মোকাবিলা করা ও শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, তবে মার্কিন-ভারত সম্পর্ককে আবার সঠিক পথে ফেরানোই হবে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অর্জন।

ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, শুল্ক বিষয়ক আলোচনা এখনো চলছে এবং তারা আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙতে রাজি নয়। তবে মার্কিন প্রশাসন যদি বারবার চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে দুই দেশের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক কেবল অর্থনীতির নয়, কৌশলগতও। চীনের প্রভাব প্রতিহত করতে ওয়াশিংটনের পাশে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারে দিল্লি। তাই হ্যালির সতর্কবার্তাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।