


মাত্র ১২০ দিনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হেফজ করে নজির স্থাপন করেছেন ১১ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল আজহার। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া ইউনুছিয়া ইসলামিয়া নয়দুয়ারিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে এই ব্যতিক্রমী কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
আব্দুল্লাহ আল আজহার ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর গ্রামের মৃত নুর জামাল ও বিবি হাজেরার একমাত্র ছেলে। শৈশবেই পিতৃহারা হওয়ার পর তিনি মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বড় কমলদহ এলাকায় মামা আকতার হোসেনের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মাদরাসার সবক প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠানে অতিথিরা তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এই মুহূর্তে আব্দুল্লাহর মা, বিবি হাজেরা আবেগভরে বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল হাফেজের মা হওয়ার। আল্লাহর অশেষ রহমতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে আজহার একজন যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে উঠবে।”
আব্দুল্লাহর মামা আকতার হোসেন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আজহার আমার তত্ত্বাবধানে বড় হয়েছে। তার এই সাফল্যে আমি গর্বিত এবং তাকে একজন আলেম হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম জানান, “আমার ১৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এত অল্প সময়ে হেফজ সম্পন্ন করা ছাত্র আর পাইনি। আজহার অত্যন্ত মেধাবী। সে ইতিপূর্বে নূরানী বোর্ড পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। যেখানে অন্যান্য ছাত্ররা দিনে এক থেকে দেড় পৃষ্ঠা পড়া শোনাত, সেখানে আজহার নিয়মিত দিনে পাঁচ পৃষ্ঠা করে পড়া শোনাত।”
মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা জাফর উল্লাহ নিজামী আরও বলেন, “আজহারের পারিবারিক অবস্থা বিবেচনায় তার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বহন করেছে। আব্দুল্লাহ আল আজহার ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হেফজ বিভাগে ভর্তি হয়ে মাদরাসার বন্ধের দিন বাদ দিয়ে মাত্র ১২০ দিনে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হেফজ সম্পন্ন করেছে। আমার ২৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এমন মেধাবী ছাত্র আমি আগে পাইনি।”