


রাজধানীর মিরপুরে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নিতে গিয়ে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন ছাত্রদলের ছয় নেতাকর্মী। পরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।
গত রবিবার বিকাল ৫টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বরের সাইক ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ঘটনাটি ঘটে। এ বিষয়ে সোমবার রাতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মিরপুর ছাত্রদলের নেতারা।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতারা হলেন- রেজওয়ান উল করিম রিফাত, ফারহান শাহরিয়ার প্রান্ত, ফয়সাল মাহবুব, আতাউর রহমান নিরব, ইশতিয়াক খান ও আরিয়ান ইসলাম। এদের মধ্যে ফয়সাল মাহবুব ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক আহ্বায়ক এবং রেজওয়ান উল করিম রিফাত মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক। অন্যরা সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী।
জানা যায়, রেজওয়ান উল করিম রিফাতের প্রিন্স নামে এক বন্ধু আছে। প্রিন্স ‘দেশবন্ধু’ নামে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে মার্কেটিং বিভাগে পার্ট টাইম জব করেন। এ কাজের অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন প্রিন্স। আর ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিতে হয়।
ঘটনার দিন দুপুরের দিকে প্রিন্স তার মার্কেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য অনুমতি নিতে মিরপুর-১৩ নম্বরের সাইক ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবু হাসনাত মো. ইয়াহিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রিন্স নিজেকে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন।
একপর্যাায়ে প্রিন্সের রাজনৈতিক পরিচয় শুনে প্রিন্সিপালের রুমে থাকা সোহেল খন্দকার ফাহিম নামে একজন স্টাফ রেগে যান। তিনি প্রিন্সকে রাজনৈতিকভাবে নাজেহাল ও বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করেন। ফাহিম বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা মেডিকেল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে প্রিন্স সেখান থেকে বের হয়ে তার সহযোদ্ধা বন্ধুদের ঘটনাটি জানান। প্রিন্স তার ৬-৭ জন বন্ধু মিলে সাইক ইসস্টিটিউটে প্রবেশ করেন। সেখানে তার বন্ধুরা প্রিন্সিপালকে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিতে পুনরায় অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়- ‘ছাত্রদলের পরিচয়ে কিছু লোক চাঁদাবাজি করতে এসেছে ও ম্যানেজমেন্টের ওপর হামলা করেছে’। এর ফলে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সাইক ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবু হাসনাত মো. ইয়াহিয়া বলেন, “প্রিন্স নামে এক তরুণ আমাদের ইনস্টিটিউটে মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের অনুমতি নিতে এসেছিলেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসেন। এতে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির জন্য এসেছিলেন -এমন খবর ভিত্তিহীন। আমরা এমন কোনো অভিযোগ করিনি।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পেজে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি করতে এসে ধরা’ -এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এ নিয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, রিফাত ও তার বন্ধুরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। রমজান মাসে ইফতার বিতরণ, শীতকালে কম্বল বিতরণ, অসহায়দের সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন সময় স্থানীয় যুবসমাজকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা ও আয়োজন করে থাকেন তারা। সামাজিক উদ্যোগে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও নেতৃস্থানীয় ভূমিকা এলাকাবাসীর প্রশংসা পেয়েছে বারবার।
স্থানীয়দের মতে, তাদের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল, তারা উচ্চশিক্ষিত এবং সচেতন নাগরিক। তাই তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলেই মনে করছেন তারা। রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনো একটি মহল এই অপপ্রচার চালিয়ে থাকতে পারে। যাতে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
ভুক্তভোগী রেজওয়ান উল করিম রিফাত বলেন, “আমরা শুধু অনুষ্ঠানের অনুমতির জন্য কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে আমাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কিছু লোক উসকানি দেয় এবং মিথ্যা গুজব ছড়ায়। এরপর এক ধরনের মব তৈরি হয় এবং আমাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপমানিত করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার ভিডিও, ফেসবুক লাইভসহ সব তথ্যপ্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি বুঝে রাতেই আমাদের ছেড়ে দেয়।”
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ বলেন, “ছাত্রদলের কেউ চাঁদাবাজি করেনি। এটি একটি সাজানো অপপ্রচার। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরেছি।”
পুলিশ জানায়, “সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে নিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট যাচাই-বাছাই করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।”