


দেশের শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র শিশু অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন নারী উন্নয়ন শক্তির (এনইউএস) নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নারী উন্নয়ন শক্তির সভাকক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভাটির যৌথ আয়োজক ছিল নারী ও শিশু উন্নয়নে সক্রিয় ছয়টি সংগঠন। এগুলো হলো নারী উন্নয়ন শক্তি, ইয়াং উইম্যান ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, সি-লিড, ফোরাম নারী মঞ্চ ও বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম।
ড. আফরোজা পারভীন বলেন, “বাংলাদেশে শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র শিশু অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি মনে করেন, একটি পৃথক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুদের জন্য কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা এবং সুসংহত নীতি গ্রহণ সম্ভব হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য বক্তারাও দেশে শিশু শ্রম, নির্যাতন, পাচার, বাল্যবিবাহ এবং অনলাইন সহিংসতার মতো ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবেলায় একটি কেন্দ্রীয় ও কার্যকর নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি সাহিদা ওয়াহাব, ইয়াং উইম্যান ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের প্রোগ্রাম অফিসার সেলিনা খাতুন, সি-লিডের সদস্য এবং ফোরাম নারী মঞ্চের পরিচালক সেলিনা আক্তার এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন এ সময় বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করলেও একটি সমন্বিত নীতিগত কাঠামোর অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দেশে শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে শিশু নির্যাতনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সভা শেষে আয়োজক ছয়টি সংগঠন যৌথভাবে সরকারের কাছে দ্রুত “জাতীয় শিশু অধিদপ্তর” প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানায়। একইসাথে এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সাথে সংলাপ, সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান এবং নাগরিক অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম গ্রহণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।