


রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘শহীদ আবু সাঈদ বইমেলা ২০২৬’। ১২ এপ্রিল রোববার থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় থাকবে বই প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, লেখক আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এই আয়োজনকে নতুন সাংস্কৃতিক যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক গণআন্দোলনের জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে এবং তৎকালীন সরকারের পতনের ঘটনাও ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাধীনতা স্মারক মাঠে। শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভার পর বইমেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রকাশনা সংস্থা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পক্ষ বইমেলাকে সফল করতে নানা মতামত ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বইমেলার উদ্বোধন করবেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মনিরুজ্জামান জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি সংকট বিবেচনায় প্রতিদিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিশেষ সময়সূচিতে মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
মেলায় প্রতিদিনই থাকবে আলোচনা সভা, লেখক আড্ডা, আবৃত্তি, বই পর্যালোচনা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বেরোবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন বলেন, শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে এই বইমেলা একটি নতুন সাংস্কৃতিক পথচলার সূচনা করবে।