


নির্বাচনী হলফনামায় ‘সুদ’ উল্লেখ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ককে ভুল বোঝাবুঝি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরি। সম্প্রতি তার জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামার আয়ের বিবরণে ‘সুদ’ শব্দটি থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাহেরি বলেন, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে উদ্দেশ্য করে অপতথ্য ছড়াচ্ছে।
হলফনামায় উল্লেখিত আয়ের বিবরণ ব্যাখ্যা করে তাহেরি জানান, কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ২৬ হাজার ৪০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং বন্ড, সঞ্চয়পত্র, আমানত ও ব্যাংক সুদ বাবদ আয় দেখানো হয়েছে ২২ হাজার ৮৯২ টাকা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থের উৎস এককভাবে ‘সুদ’ হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী একাধিক খাত একত্রে একই কলামে উল্লেখ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা থাকা অর্থের বিপরীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদ যুক্ত হয়ে যায়। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ চাইলে এই অর্থ ব্যক্তিগত সওয়াবের নিয়তে না রেখে অন্য কোনো কল্যাণমূলক বা ভিন্ন খাতে ব্যয় করতে পারে। কিন্তু কোন প্রেক্ষাপটে অর্থটি এসেছে, সেটি না জেনেই কেবল ‘সুদ’ শব্দটি আলাদা করে তুলে ধরে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের হলফনামা ফরম্যাট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাহেরি। তার মতে, বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও সুদের জন্য আলাদা আলাদা কলাম থাকলে প্রার্থীরা আরও স্পষ্টভাবে আয়ের উৎস ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেতেন। একই কলামে সব একসঙ্গে থাকায় বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে চার-পাঁচটি আয়ের খাত উল্লেখ থাকার পরও শুধু সুদটাই আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে। ৩০০ আসনের অসংখ্য প্রার্থী হলফনামায় এ ধরনের আয় দেখিয়েছেন—কারও ক্ষেত্রে লাখ লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি। আমার ক্ষেত্রে মাত্র ২২ হাজার টাকার বিষয়টি নিয়েই এত আলোচনা—এটা কোন খেলা, আমি সত্যিই বুঝলাম না।”