


দেশের আবহাওয়ায় আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে চলমান তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় প্রকাশিত নিয়মিত আবহাওয়ার বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পড়বে।
আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার ও সোমবার (১০–১১ মে) দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনাও ঘটতে পারে।
মঙ্গলবার (১২ মে) থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বাড়তে পারে। এদিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
বুধবার (১৩ মে) পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বৃষ্টির প্রভাব দেশের আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এদিন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
ঢাকার আবহাওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৬টায় রাজধানীতে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৪ শতাংশ। বর্তমানে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৮ মিনিটে।
আবহাওয়াবিদরা এ সময়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, বাইরে বের হলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা উচিত। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী বা উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করতে এবং নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।