


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বলেন, “৯২ ভাগ মুসলিমের বাংলাদেশ চলবে কোরআনের নিয়মে।” তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৪ বছরে দেশের পরিচালনায় নেতৃত্বদাতাদের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, এ কারণে দেশ কলঙ্কিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেজাউল করীম। সভার আয়োজন করা হয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রার্থী নেছার আহমাদ আন-নাছিরীর সমর্থনে।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ দলগুলো স্পষ্ট করেছে যে, তারা কোরআন ও ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একমাত্র দল, যা দেশকে কোরআন ও ইসলামের নীতির ভিত্তিতে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি মনে করেন, দলটি ক্ষমতায় এলে মুসলমানদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষদেরও ইসলামের নীতি অনুযায়ী স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।
রেজাউল করীম বলেন, “আমরা প্রথমে পাঁচদল একসঙ্গে চলছিলাম, ইসলামের পক্ষে ভোট নিশ্চিত করার জন্য। পথচলায় জামায়াতসহ আরও কয়েকটি দল যোগ দিয়েছিল। কিন্তু তারা যখন দেখল সারাদেশে মানুষের পক্ষে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা, তখন ক্ষমতার লোভে ইসলামের নীতি পরিত্যাগ করে প্রচলিত গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্যই আমরা সারাদেশে ২৫৮টি আসনে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ভোট চাইছি।”
তিনি আরও বলেন, ভালো নীতি, ভালো নেতা ও সঠিক আদর্শ থাকলে খলিফা ওমরের মতো শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিএনপি বা জামায়াত জোট কেউই ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় না। তাই তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ মার্কায় ভোট দিলে শুধু দুনিয়াতে শান্তি নয়, আখেরাতে মুক্তিও নিশ্চিত হবে।
জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুফতি রেজাউল করীম আবরার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী গাজী নিয়াজুল করীম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক আবু হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আশরাফুল ইসলাম বিলাল এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ আনোয়ার আহমদসহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ।