Date: April 22, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / খুলনা / খুলনায় ডিউটিরত পুলিশ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু, নিজ অস্ত্রের গুলিতে প্রাণহানি - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প...

খুলনায় ডিউটিরত পুলিশ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু, নিজ অস্ত্রের গুলিতে প্রাণহানি

April 18, 2026 03:56:12 PM   অনলাইন ডেস্ক
খুলনায় ডিউটিরত পুলিশ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু, নিজ অস্ত্রের গুলিতে প্রাণহানি

খুলনায় রেলওয়ে পুলিশের এক কনস্টেবল ডিউটিরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি নিজের অস্ত্র ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজে অবস্থিত রেলওয়ে পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত পুলিশ সদস্যের নাম সম্রাট বিশ্বাস। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার পদ্মবিলা এলাকার বাসিন্দা এবং শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে।

জানা গেছে, সম্রাট বিশ্বাস গত বছরের ৩ নভেম্বর খুলনা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। তার স্ত্রী পূজা বিশ্বাসও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, যিনি সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত রয়েছেন। পারিবারিকভাবে দুজনেই সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও হঠাৎ এমন ঘটনার কারণে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সম্রাট বিশ্বাসের ডিউটি ছিল। দায়িত্ব পালনকালে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ব্যবহৃত চাইনিজ রাইফেল মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই খুলনা রেলওয়ে পুলিশ এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ডিউটিরত অবস্থায় মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার মাধ্যমে সম্রাট বিশ্বাস আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সুপার আহমেদ মাইনুল হাসান জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের সদস্যদের ইতোমধ্যে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মানসিক চাপ, কর্মপরিবেশ এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।