


মাত্র ৫০০ টাকার জেরে কেরানীগঞ্জে এক স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে লাইফ সাপোর্টে পাঠিয়েছে তার সহপাঠীরা। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে কেরানীগঞ্জের মডেল টাউনের বি ব্লকে টাইমস স্কুল এন্ড কলেজের পাশে এই ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রের নাম সাজ্জিদ রহমান ফাহিম (১৪)। সে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কয়েক দিন আগে ফাহিম তার সহপাঠী পরশের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়েছিল। অথবা কোনো একটি জিনিস নিয়েছিল যার দাম ৫০০ টাকা। ফাহিম ওই টাকা বা জিনিসটি হারিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে পরশ টাকা ফেরত চাইলে ফাহিম কিছুদিন সময় চায়। এই ঘটনায় গত পরশু পরশ ও তার বন্ধু তামিম মিলে ফাহিমকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়।
সোমবার বিকেল ৫টার দিকে পরশ তার দলবল নিয়ে আমান ভবনের সামনে ফাহিমের কাছে টাকা দাবি করে। ফাহিম আবারও দুই থেকে তিন দিন সময় চাইলে পরশ ও তামিম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা তৌহিদ, সাইফুল ও নিরবসহ আরও ৫-৬ জনকে ডেকে এনে ফাহিমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
কৈশোরের এই সহপাঠীরা ফাহিমকে এমনভাবে মারধর করে যে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। এক পর্যায়ে ফাহিমের শ্বাসনালী ফেটে যায় এবং তার মস্তিষ্কে ও ফুসফুসে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। বর্তমানে তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ফাহিমের বড় বোন সুরাইয়া আক্তার জানান, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য এভাবে কাউকে মারধর করা হতে পারে আমরা ভাবতে পারিনি। ফাহিম এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছে। আমাদের পুরো পরিবার এখন শোকে স্তব্ধ। আমরা এই ঘটনায় জড়িত পরশ, তামিম, তৌহিদ, সাইফুল ও নিরবসহ প্রত্যেকের বিচার চাই। বিশেষ করে যারা পরশকে এই কাজে উসকানি দিয়েছে, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
টাইমস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক দ্বীন মোহাম্মদ এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জিদ রহমান ফাহিমের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জেনেছি মাত্র ৫০০ টাকা বা সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তার সহপাঠীরা তার ওপর এই হামলা চালিয়েছে। ফাহিম আমাদের স্কুলের একজন শান্ত ও মেধাবী ছাত্র এবং সে খুব ভালো ফুটবল খেলত। সহপাঠীদের হাতে তার এই করুণ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন আমাদের স্কুলেরই ছাত্র বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং পুলিশের তদন্তে সব ধরণের সহযোগিতা করছি। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ফাহিমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি ফাহিম যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে। একই সাথে এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, স্কুলছাত্র ফাহিমকে মারধরের ঘটনায় তার পরিবার থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তিন ছাত্রকে গ্রেফতারে করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত তাদের জামিন দিয়েছে।