Date: May 09, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম মোজাফফর, এবার চাইলেন আর্থিক ক্ষতিপূরণ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্...

ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম মোজাফফর, এবার চাইলেন আর্থিক ক্ষতিপূরণ

May 09, 2026 07:38:06 PM   অনলাইন ডেস্ক
ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম মোজাফফর, এবার চাইলেন আর্থিক ক্ষতিপূরণ

ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাসের বেশি কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ইমাম মোজাফফর আহমদ। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযোগটি ভিত্তিহীন ছিল এবং প্রকৃত ঘটনায় জড়িত ছিলেন কিশোরীরই সহোদর বড় ভাই। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অব্যাহতি পাওয়া মোজাফফর এখন সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শুরুতে মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর দায়ের করা মামলার পর তিনি চাকরি হারান এবং গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন।

পরে মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়। পরীক্ষায় তার সঙ্গে শিশুটির কোনো জিনগত মিল পাওয়া যায়নি। এরপর আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, কিশোরীর জন্ম দেওয়া সন্তানের জৈবিক পিতা তারই বড় ভাই মোরশেদ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে করা ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সঙ্গে শিশুটির ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। এরপর তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইমাম মোজাফফর আহমদ অভিযোগ করেন, মিথ্যা মামলার কারণে তিনি সামাজিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হয়েছেন। চাকরি হারানোর পাশাপাশি মামলা চালাতে গিয়ে নিজের বসতভিটাও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। মুক্তির পরও তিনি নতুন কোনো কর্মস্থলে কাজ পাননি বলে জানান।

তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলাম। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে আমার জীবন ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এখন ন্যায়বিচার ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাই।”

তার আইনজীবী জানান, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, নিরপরাধ একজন ইমামকে ফাঁসানোর ঘটনায় তার মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির দায় রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

পুলিশও নিশ্চিত করেছে, ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে মোজাফফরের নাম চার্জশিট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং প্রকৃত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পর এক নিরপরাধ ইমামের জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ক্ষতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।