


পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। আর এই অনুষ্ঠানেই পশ্চিমবঙ্গের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মঞ্চে মাথা নত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মুহূর্তটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
শনিবার (৯ মে) আয়োজিত এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এনডিএ জোটের শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি নেতারা। এছাড়া হাজার হাজার দলীয় সমর্থকের উপস্থিতিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে।
এই শপথের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে রাজ্যে ক্ষমতায় আসাকে বিজেপির জন্য ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি মঞ্চ থেকে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে করজোড়ে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাথা নত করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সেই মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেন মোদি। সেখানে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে প্রণাম জানাই। জনগণের আশীর্বাদই গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি।”
বিজেপির অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পোস্টে বলা হয়, বাংলার মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিই এই শ্রদ্ধা নিবেদন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ব্রিগেড এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢলে পুরো এলাকা ছিল উৎসবমুখর।
শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।