


পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর বাজারে মসলার বেচাকেনা বেড়েছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এই বাজারে ভিড় করছেন। বিশেষ করে এলাচ, জিরা, গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি ও শুকনা মরিচের চাহিদা এখন অনেক বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারত থেকে নিয়মিত মসলা আমদানি হওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার অধিকাংশ মসলার দাম কিছুটা কম। এতে সাধারণ ক্রেতারা যেমন খুশি, তেমনি ব্যবসায়ীদের বিক্রিও গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো হচ্ছে।
শনিবার ৯ মে সকালে হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। কেউ পরিবারের জন্য মসলা কিনছেন, আবার কেউ পাইকারি সংগ্রহের জন্য এসেছেন। হিলির মসলা ব্যবসায়ী সিফাত হোসেন জানান, গত কোরবানির ঈদে সাদা এলাচ প্রতি কেজি ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে তা ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কালো এলাচের দামও কেজিতে প্রায় ৫০০ টাকা কমেছে। লবঙ্গ আগে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া গোলমরিচ ১ হাজার ২০০ টাকা এবং জিরার দাম ৬৩০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে ৫৬০ টাকায় নেমে এসেছে।
রাজশাহী থেকে আসা ক্রেতা আহসান হাবীব বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সরাসরি ভারতীয় মসলা আমদানি হওয়ায় এখানে কম দামে ভালো মানের জিনিস পাওয়া যায়। এবার দাম কম থাকায় আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ মসলা কিনতে পারছি। স্থানীয় গৃহিণী সোহানা চৌধুরী জানান, গতবারের তুলনায় দাম কম থাকায় মাংস রান্নার প্রয়োজনীয় মসলা কিনতে সুবিধা হচ্ছে। এতে তাদের সংসারের খরচ কিছুটা কমবে। বিশেষ করে এলাচ, জিরা ও লবঙ্গের দাম কমায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা সাহেদ কবির বলেন, বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় মসলার দাম এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। গত বছরের তুলনায় এবার সহনীয় দামেই সব পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ী সাওন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন যে ঈদের আগের সপ্তাহে বেচাকেনা আরও জমজমাট হয়ে উঠবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারত থেকে মসলা আমদানি স্বাভাবিক থাকলে ঈদের আগ পর্যন্ত বাজার স্থিতিশীল থাকবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কোনো বাড়তি চাপ ছাড়াই তাদের কেনাকাটা শেষ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার তদারকি করলে দাম আরও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।