Date: February 10, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / ডিম-ভুট্টার আটার কাগজে ৬ বছরের সাধনায় বিশাল কোরআন লিখলেন ইরাকি শিল্পী - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ডিম-ভুট্টার আটার কাগজে ৬ বছরের সাধনায় বিশাল কোরআন লিখলেন ইরাকি শিল্পী

February 04, 2026 10:54:53 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ডিম-ভুট্টার আটার কাগজে ৬ বছরের সাধনায় বিশাল কোরআন লিখলেন ইরাকি শিল্পী

ডিম ও ভুট্টার আটার বিশেষভাবে প্রস্তুত কাগজে চারুশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন ইরাকি ক্যালিগ্রাফার আলি জামান। দীর্ঘ ছয় বছরের নিরলস সাধনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি বিশাল ও ব্যতিক্রমধর্মী হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছেন, যার প্রতিটি পৃষ্ঠা দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৩ ফুট বা ৪ মিটার। এই বিশালাকৃতির কোরআন শরিফটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে লেখা কোরআন হিসেবে দাবি করা হলেও এখনো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি।


৫৪ বছর বয়সী আলি জামান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক মিহরিমা সুলতান মসজিদের একটি কক্ষে বসেই এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ এই শ্রমসাধ্য সাধনা শেষ করতে পারায় তিনি মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং একই সঙ্গে নিজের কাজ নিয়ে গর্ব অনুভব করছেন বলে জানান।


এই হাতে লেখা কোরআন শরিফটির অন্যতম বিশেষত্ব এর কাগজে ব্যবহৃত উপকরণ। সাধারণ কাগজের পরিবর্তে আলি জামানের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে ডিম, ভুট্টার আটা বা কর্ন স্টার্চ এবং ফিটকিরি (অ্যালাম) মিশিয়ে তৈরি করা হয় ভারী টেক্সচারের কাগজ বা পার্চমেন্ট। এই বিশেষ কাগজে সম্পূর্ণ কোরআনটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে মোট ৩০২টি দ্বি-পার্শ্বযুক্ত স্ক্রল বা গোটানো কাগজে। প্রতিটি স্ক্রলের দৈর্ঘ্য ৪ মিটার (১৩ ফুট) এবং প্রস্থ ১.৫ মিটার।


ইরাকের উত্তরাঞ্চলের রানিয়া শহরে জন্মগ্রহণকারী আলি জামান ২০১৭ সালে পরিবারসহ তুরস্কে চলে আসেন। নিজ দেশের তুলনায় তুরস্কে ক্যালিগ্রাফি শিল্পের ব্যাপক কদর ও পৃষ্ঠপোষকতা থাকায় তিনি ইস্তাম্বুলকেই নিজের স্বপ্নের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নেন। গত ছয় বছর ধরে তিনি

 

 

প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এই ক্যালিগ্রাফির কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
বর্তমানে এই বিশাল পাণ্ডুলিপিটি ধুলোবালি ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষার জন্য মসজিদের ভেতরেই বিশেষভাবে ঢেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আলি জামানের প্রত্যাশা, তার এই অনন্য শিল্পকর্মটি ভবিষ্যতে কোনো জাদুঘর বা ক্যালিগ্রাফির জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে স্থান পাবে, যেখানে দর্শনার্থীরা এটি কাছ থেকে দেখতে পারবেন এবং যথাযথভাবে এর শিল্পমূল্য উপলব্ধি করতে পারবেন।
সূত্র: এপি নিউজ