Date: April 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / অর্থনীতি / প্লাস্টিকের চাপে হারিয়ে যেতে বসেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্প - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

প্লাস্টিকের চাপে হারিয়ে যেতে বসেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্প

April 14, 2026 12:57:42 PM   অনলাইন ডেস্ক
প্লাস্টিকের চাপে হারিয়ে যেতে বসেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্প

সাতক্ষীরার শত বছরের পুরোনো মাদুর শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্লাস্টিক মাদুরের দাপট, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে এই লোকজ শিল্প দ্রুত হারিয়ে যেতে বসেছে। কয়েক শত পরিবার এখনো কোনোভাবে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখলেও আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।

সাতক্ষীরা এক সময় দেশজুড়ে পরিচিত ছিল তার মাদুর শিল্পের জন্য। জেলার আশাশুনি ও তালা উপজেলায় ব্যাপকভাবে ‘মেলে’ বা পাতি চাষ হতো, যা ছিল এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। তখন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে।

বর্তমানে প্লাস্টিক মাদুর বাজার দখল করে নেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী মেলে মাদুরের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি লবণাক্ততার প্রভাব, জমিতে চাষ কমে যাওয়া এবং কাঁচামালের সংকটের কারণে উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। এতে করে লাভের পরিমাণ কমে গিয়ে অনেক পরিবার এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গেছে।

তবুও জেলার প্রায় ৩০০ পরিবার এখনও এই শিল্পকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। নারীদের হাতে তৈরি এসব মাদুর শুধু একটি পণ্য নয়, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেই টিকে আছে।

একজন মাদুর কারিগর জানান, এই পেশাই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হলেও এখন মাদুর বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাইরে থেকে আসা প্লাস্টিক মাদুরের কারণে ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে আয় অনেক কমে গেছে।

আরেক কারিগর বলেন, বয়সের কারণে অন্য কোনো কাজ করতে না পারায় বাধ্য হয়েই এই পেশায় টিকে আছেন। তবে মেলে কিনতে হয় বাকিতে, আর মাদুর বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করার পর হাতে খুব সামান্যই থাকে, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

কারিগরদের তথ্য অনুযায়ী, একটি মাদুর তৈরিতে মেলে ও পাটের দড়ি মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। একটি মাদুর তৈরি করতে সময় লাগে এক থেকে দুই দিন। সপ্তাহে তিন থেকে চারটি মাদুর তৈরি করা সম্ভব হলেও বাজারদর অনুযায়ী আয় খুবই সীমিত। সাধারণ নামাজি মাদুর ১০০ টাকা থেকে শুরু করে বড় মাদুর ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় এখনো প্রায় ৩০০ পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তবে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাতক্ষীরা বিসিকের প্রমোশন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্লাস্টিক মাদুরের কারণে মেলে মাদুরের চাহিদা কমে গেছে এবং কারিগরদের আয়ও হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, বিসিকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা রয়েছে, যা গ্রহণ করে কারিগররা তাদের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারেন।