Date: May 08, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / বিরল মশাবাহিত রোগে চট্টগ্রামে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

বিরল মশাবাহিত রোগে চট্টগ্রামে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার

May 08, 2026 09:15:43 PM   অনলাইন ডেস্ক
বিরল মশাবাহিত রোগে চট্টগ্রামে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার

চট্টগ্রামে বিরল মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। তিনি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি-এর (সিভাসু) ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ছিলেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি ‘জাপানিজ এনসেফালাইটিস’ নামের একটি মারাত্মক মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা খুব দ্রুত তার স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অধ্যাপক জুথি। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৪ মে তার শরীরে প্রথম জ্বর দেখা দেয়। সেই সঙ্গে ছিল তীব্র মাথাব্যথা ও বমির সমস্যা। শুরুতে সাধারণ ভাইরাল জ্বর বা ফ্লু মনে হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তিনি প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিলেন। ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরে ‘জাপানিজ এনসেফালাইটিস’-এর প্রায় সব ধরনের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। এই রোগ সাধারণত কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং সরাসরি মানুষের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে। চিকিৎসকদের ধারণা, ভাইরাসের প্রভাবে তার একাধিক ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি হার্ট অ্যাটাকেও আক্রান্ত হন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানিজ এনসেফালাইটিস একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাল রোগ। সময়মতো শনাক্ত করা না গেলে এটি দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বমি, খিঁচুনি কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অধ্যাপক জুথির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সিভাসু প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এক শোকবার্তায় তাকে অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেন।

সহকর্মীরা জানান, তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ২০০৭-০৮ সেশনের কৃতী শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে গিয়ে হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক সম্পন্ন করেন। দেশে ফিরে চলতি বছরের শুরুতে সিভাসুতে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।

ব্যক্তিগত জীবনে তার স্বামী ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্নবও একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। ড. জুথির অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।