


সাবেক ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের সঙ্গে ম্যাচ না খেলার পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বদলাতে পারে। অশ্বিনের মতে, আর্থিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের বহুল আলোচিত ম্যাচটি ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যদিও পাকিস্তান সরকার তাদের দলকে শ্রীলঙ্কায় সফরের অনুমতি দিয়েছে, একই সঙ্গে ভারতের বিপক্ষে মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত, ম্যাচটি হবে। চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। না খেললে তারা বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সম্প্রচারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আইসিসির অন্যান্য সদস্য দেশগুলোরও লোকসান হবে।’
অশ্বিন আরও উল্লেখ করেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের প্রভাব পাকিস্তানের সুপার লিগেও (পিএসএল) পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রিকেটারদের এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) প্রদানের বিষয়েও জটিলতা দেখা দিতে পারে। তিনি ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার কথায়, ‘ম্যাচটি তো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হচ্ছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? নির্দিষ্ট কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলব না—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে, ৪ ফেব্রুয়ারি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে, আর পাকিস্তান মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে। অশ্বিন পাকিস্তান দলকে হালকাভাবে নেওয়ার পরামর্শ দেননি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক ৩-০ সিরিজ জয়ের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘যদি পাকিস্তান চায়, তারা এই টুর্নামেন্টে অনেক দূর যেতে পারে।’
অন্যদিকে, আইসিসি এক বিবৃতিতে পিসিবিকে সতর্ক করেছে যে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পড়তে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে তাদের অবস্থান জানায়নি।
গ্রুপ ‘এ’-তে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের পাশাপাশি রয়েছে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্র। উভয় দলই ৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী দিনে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।