


পাবনার চাটমোহরে চুরির অভিযোগে প্রতিবেশীদের মারধর ও অপমানের পর ১৩ বছরের এক মাদরাসাছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৮ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর গ্রামে।
নিহত ছাত্রী শ্রাবন্তি খাতুন ওরফে বিরতি (১৩) চিনাভাতকুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় চিনাভাতকুর ওয়ারেছিয়া দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেলে শ্রাবন্তি প্রতিবেশী আ. হান্নানের বাড়িতে গেলে তাকে টাকা চুরির অভিযোগে আটক করে মারধর করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তাকে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মেয়েটির চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অভিযুক্ত পক্ষ তার মাকেও গালিগালাজ করে এবং মেয়েকে শাসন করার জন্য চাপ দেয়।
পরবর্তীতে মা কাজের জন্য বাইরে গেলে বাড়ির নিজ কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় শ্রাবন্তি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। শনিবার (৯ মে) ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা মর্গে পাঠানোর কথা রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শুক্রবার রাত ৮টার দিকে চারজনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে চাটমোহর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
চাটমোহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকার জানান, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।