


রাজধানী ঢাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে নবনির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর” উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
ঢাকা-এর আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর-এর প্রধান কার্যালয়ে নতুন এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন সংরক্ষণ শুধু ইতিহাস জানার বিষয় নয়, এটি জাতির পরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করে।
এই জাদুঘরে বাংলাদেশের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে সুলতানি ও মুঘল আমলের অসংখ্য মূল্যবান প্রত্ননিদর্শন সুনিপুণভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শনীগুলোর মাধ্যমে দেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক পথচিত্র দর্শনার্থীদের সামনে ফুটে উঠবে।
উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর ও উয়ারী-বটেশ্বরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল থেকে সংগৃহীত নিদর্শন পরিদর্শন করেন। এসব প্রত্নবস্তু দেশের প্রাচীন সভ্যতার গভীরতা ও বৈচিত্র্য তুলে ধরে।
জাদুঘরের প্রদর্শনীতে খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ের নানা নিদর্শন স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃৎপাত্র, ধাতব পাত্র, সিল ও পোড়ামাটির বল। পাশাপাশি দশম-একাদশ শতাব্দীর বিষ্ণু মূর্তি এবং অষ্টম-নবম শতাব্দীর তারা মূর্তিসহ নানা ঐতিহাসিক নিদর্শনও প্রদর্শিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবিনা আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তিনি প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও নিবেদিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই নতুন জাদুঘর বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।