Date: April 24, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রাজশাহী / শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা, বিএনপি নেতার ভিডিও ভাইরাল - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা, বিএনপি নেতার ভিডিও ভাইরাল

April 24, 2026 02:14:12 PM   অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা, বিএনপি নেতার ভিডিও ভাইরাল

রাজশাহীর দুর্গাপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এক শিক্ষিকা ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে উত্তেজনাকর ঘটনায় মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর, রাজশাহী উপজেলার দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে বলে জানা যায়। ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আগামী ৪ ও ৫ মে স্থানীয় দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি তাফসিরুল কুরআন মাহফিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। ওই আয়োজনের আমন্ত্রণ ও আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা করতে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যান।

এ সময় কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা অধ্যক্ষের পাশে উপস্থিত ছিলেন। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ভিডিও করতে নিষেধ করলে শিক্ষিকা ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে মারধরের ঘটনাও ঘটে, যা নিয়ে দুটি পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।

ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময়ও উত্তেজনা চলতে থাকে বলে জানা গেছে। এতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় জয়নগর ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা জয়নাল আবেদিন, মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এজদার আলীসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন, আলেয়া খাতুন হীরা অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে তার প্রভাব রয়েছে এবং তিনি অনেক সময় অন্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা। তিনি দাবি করেন, মাহফিলের জন্য চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি কলেজে এসেছিলেন এবং অধ্যক্ষকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কথাকাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনি নিজেও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।ঘটনাটি এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।