Date: April 21, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / নওরোজে পুতিনের বার্তা: সংকটের মধ্যেও ইরানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি রাশিয়ার - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্...

নওরোজে পুতিনের বার্তা: সংকটের মধ্যেও ইরানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি রাশিয়ার

March 21, 2026 04:06:33 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নওরোজে পুতিনের বার্তা: সংকটের মধ্যেও ইরানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি রাশিয়ার

ফারসি নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে ইরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তিনি জানিয়েছেন, কঠিন সময়ে মস্কো তেহরানের বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবেই পাশে থাকবে।

শনিবার (২১ মার্চ) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নওরোজ উপলক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় এই প্রতিশ্রুতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বার্তায় পুতিন ইরানের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা যেন মর্যাদার সঙ্গে এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, রাশিয়া সবসময় তেহরানের পাশে থাকা এক বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাবে।

ক্রেমলিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন গভীর অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে উল্লেখ করেন পুতিন।

তবে ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে কিছু বিতর্কও সামনে এসেছে। ইরানের কিছু সূত্রের দাবি, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় সংকটে পড়লেও মস্কোর কাছ থেকে তারা প্রত্যাশিত সহায়তা পায়নি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে পলিটিকোর একটি প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল—যদি ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে মস্কোও ইরানকে তথ্য সরবরাহ বন্ধ করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানানো হয়। যদিও ক্রেমলিন এই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরান কৌশলগত অংশীদার হলেও তাদের মধ্যে সরাসরি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। পাশাপাশি মস্কো বারবার জানিয়ে এসেছে, তারা চায় না ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করুক, কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নওরোজের শুভেচ্ছা বার্তার মধ্য দিয়ে পুতিন একদিকে যেমন ইরানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে বৈশ্বিক রাজনীতির জটিল বাস্তবতাও স্পষ্ট করে তুলেছেন—যেখানে মিত্রতা, কৌশল ও স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স