


বাবাকে হারানোর গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন অভিনয়শিল্পী বন্যা মির্জা। প্রয়াত বাবা মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারীকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে ভক্ত ও সহকর্মীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী গত ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। বাবার মৃত্যুর সময় দেশে ছিলেন না বন্যা মির্জা; তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইউর্কে অবস্থান করছিলেন। দুঃসংবাদ পেয়ে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন তিনি।
শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে বাবার স্মৃতিচারণ করেন বন্যা। সেখানে তিনি বাবাকে শুধু অভিভাবক নয়, বরং একজন সৎ, সাহসী ও নিরহংকার মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “সব সন্তানই বাবাকে সৎ ও সাহসী ভাবতে ভালোবাসে, কিন্তু আমার বাবা সত্যিই তেমন ছিলেন।”
বন্যা জানান, তার বাবার জীবনে কোনো অভিযোগ ছিল না। বরং সব সময় চাইতেন সন্তানরা যেন তার কাছাকাছি থাকে। বড় পদে চাকরি করলেও তিনি কখনো বিলাসিতায় জড়াননি; বরং পরিবারকে শিখিয়েছেন সাদামাটা জীবনযাপন, সততা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মূল্যবোধ।
কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতার জন্য পরিচিত এই মানুষটি সময়নিষ্ঠা ও হাসিমুখে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেন। অবসর জীবনে গুরুতর অসুস্থতা, এমনকি ওপেন হার্ট সার্জারির মতো কঠিন সময় পার করেও তিনি ভেঙে পড়েননি; বরং দৃঢ় মনোবলেই জীবনকে এগিয়ে নিয়েছেন।
সবচেয়ে আবেগঘন ছিল তার বাবার শেষ সময়ের স্মৃতি। বন্যা জানান, মৃত্যুর আগের রাতে ভিডিও কলে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন তার বাবা এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। পরদিন সকালেই তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান—যেন বিদায়ের আগে সব হিসেব চুকিয়ে নেন।
পোস্টের শেষে বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বন্যা মির্জা। পাশাপাশি, তার বাবার কারণে কারও মনে কোনো কষ্ট থেকে থাকলে তাদের কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারীর জানাজা শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর মনসুরাবাদ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে রায়ারবাজার কবরস্থানে দাফন করা হবে।
কর্মজীবনে তিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পর পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও দেশ-বিদেশের খবরের প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। ফুটবল, ক্রিকেট, রাগবি, টেনিস কিংবা গলফ—সব ধরনের খেলাধুলা নিয়েই আলোচনা করতে ভালোবাসতেন তিনি।
বাবাকে নিয়ে এই আবেগঘন লেখায় যেন এক সাধারণ অথচ অসাধারণ জীবনের গল্প তুলে ধরেছেন বন্যা মির্জা—যেখানে ভালোবাসা, সততা আর বিদায়ের বেদনা একসূত্রে গাঁথা।