Date: April 22, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / মোনাজাতে বিশ্বশান্তির বার্তা, মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

মোনাজাতে বিশ্বশান্তির বার্তা, মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

March 21, 2026 01:44:12 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
মোনাজাতে বিশ্বশান্তির বার্তা, মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে যুদ্ধ বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই আয়োজন ধর্মীয় ও মানবিক বার্তায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।

ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে শুরু হয় বিশেষ মোনাজাত। এতে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি এক মাস সিয়াম সাধনার পর প্রাপ্ত আত্মশুদ্ধিকে জীবনে বাস্তবায়নের তৌফিক কামনা করা হয়।

মোনাজাতে দেশের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের সার্বিক মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়। বিশেষভাবে মুসলিম বিশ্বে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ইরানসহ বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।

মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক মোনাজাতে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমরা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। তাদের রক্ষা ও সহায়তায় মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় শুধু মুসলিম উম্মাহ নয়, সমগ্র মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তায় মোনাজাতটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা ঈদের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।

ঈদের এই প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এতে শামিল হন।

জাতীয় ঈদগাহে নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। পর্যাপ্ত অযুখানা ও মেডিকেল টিমের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারী অংশ নেন।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও মানবিক বার্তায় পরিপূর্ণ এই আয়োজন ঈদের প্রকৃত তাৎপর্যকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরেছে।