


বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের বহুল প্রত্যাশিত কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বগুড়ার কৃষিপণ্য রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও জানান, বগুড়া একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় এখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো বিমান ওঠানামার উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি প্রকৌশলসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠবে।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর মতো কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন, যা কৃষি উৎপাদন ও পানিসংকট মোকাবেলায় সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্বচ্ছতা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। মতের পার্থক্য থাকলেও উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে দিনভর বগুড়া সফরে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। জেলা জজ আদালতে নবনির্মিত ভবন ও ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের নামফলক উন্মোচন, গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
পরে সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।