


আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা মানদণ্ডে প্রথমবারের মতো বড় সাফল্য অর্জন করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)। মর্যাদাপূর্ণ টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থান করে নিয়েছে ৬০১ থেকে ৮০০ ব্যান্ডে। এতে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) টিএইচই’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়। এবারের তালিকায় বাংলাদেশের মোট ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তবে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই মাভাবিপ্রবির এই অবস্থান অর্জন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
র্যাঙ্কিং বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাভাবিপ্রবির বিভিন্ন সূচকে পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য। শিক্ষাদানে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কোর ১৬.৭, গবেষণা পরিবেশে ১০.৬, গবেষণার মানে ৫৭.৩, শিল্পখাত থেকে আয় সূচকে ১৯.৬ এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ৪৬.৮। এসব সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৩.৩ থেকে ৩০.৮-এর মধ্যে। বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি সূচকে মাভাবিপ্রবি দেশের মধ্যে নবম অবস্থান অর্জন করেছে, যা তাদের বৈশ্বিক সংযোগ ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের অগ্রগতিকে নির্দেশ করে।
একই ব্যান্ডে বাংলাদেশের আরও কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাভাবিপ্রবি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যা তাদের একাডেমিক ও গবেষণা সক্ষমতার প্রতিফলন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ বলেন, এটি কেবল একটি সূচনা, সামনে আরও বড় লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং র্যাঙ্কিং সংশ্লিষ্ট কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তিনি ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এশিয়ার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, যা টানা অষ্টমবারের মতো এই অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের এই র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয় শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণার প্রভাব, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে।