


রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন-এর বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ঘিরে এক মজার মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। বক্তব্য চলাকালে বারবার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি প্রশংসায় কিছুটা বেশি সময় নিলে, উপস্থিত দর্শক ও বিশেষ অতিথি তারেক রহমান হালকা রসিকতা করে বলেন—“মন্ত্রী সাহেব প্রশংসা একটু কম কইরেন।” মুহূর্তেই পুরো মিলনায়তনে হাসি ও করতালির শব্দে পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাস্যরসের সুরে জবাব দেন যে, তিনি অতিরিক্ত কিছু বলেননি, যতটুকু বলা হয়েছে সেটি স্বাভাবিক মন্তব্যই ছিল।
ঘটনাটি মূল আলোচনায় পরিণত হলেও সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা জোরদার করা। বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সরকার, চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং মানবসেবাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারপ্রধান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসহ সব খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষায়, উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সংসদে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ধারাবাহিক নেতৃত্ব ও নীতিগত দিকনির্দেশনার কারণেই স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানান, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে এবং সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য। তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাই পারে একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।