Date: April 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / রাজধানী / নববর্ষের বর্ণিল শোভাযাত্রায় মুগ্ধ বিদেশিরা, বিশ্বমঞ্চে বাঙালির ঐতিহ্যের জয়গান - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের...

নববর্ষের বর্ণিল শোভাযাত্রায় মুগ্ধ বিদেশিরা, বিশ্বমঞ্চে বাঙালির ঐতিহ্যের জয়গান

April 14, 2026 09:23:47 PM   অনলাইন ডেস্ক
নববর্ষের বর্ণিল শোভাযাত্রায় মুগ্ধ বিদেশিরা, বিশ্বমঞ্চে বাঙালির ঐতিহ্যের জয়গান

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুধু দেশবাসীকেই নয়, মুগ্ধ করেছে বিদেশি পর্যটক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদেরও। রঙ, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এই আয়োজন যেন এক বিশ্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়, যেখানে অংশ নিয়ে বিদেশিরাও হয়ে ওঠেন বাঙালিয়ানা উদযাপনের অংশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এলাকায় বিদেশি অতিথিদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। লাল-সাদা পোশাকে সেজে তারা মিশে যান শোভাযাত্রার প্রাণবন্ত আবহে। কেউ ক্যামেরায় ধারণ করেন বর্ণিল মুহূর্ত, কেউ আবার স্থানীয়দের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন। অনেক বিদেশিকেই দেখা যায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাজে—কপালে লাল টিপ, খোঁপায় ফুল ও হাতে আলপনার নকশায়।

জানা গেছে, যুক্তরাজ্য, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, রাশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটক ও সাংবাদিকরা এই আয়োজন উপভোগ করতে ঢাকায় এসেছেন। কেউ দূতাবাসের প্রতিনিধি, আবার কেউ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হয়ে শোভাযাত্রা কাভার করছেন।

লন্ডন থেকে আসা চার্লস নোড বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতা এবং এই শোভাযাত্রার রঙিন আয়োজন তাকে মুগ্ধ করেছে। ভারতের ত্রিপুরা থেকে আগত নয়ন ভার্মা জানান, তাদের দেশেও বৈশাখ পালিত হলেও বাংলাদেশের মতো এত বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন বিরল। রাশিয়া থেকে আসা এক সাংবাদিক বলেন, এমন অনন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও বেগম রোকেয়া হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়। পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবমুখর মিলনমেলায়।

শোভাযাত্রার শুরুতেই মহানগর পুলিশের ঘোড়সওয়ার দল অংশ নেয়। এরপর জাতীয় পতাকা বহনকারী শিক্ষার্থীদের দল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ এতে যোগ দেন।

এবারের শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ ছিল পাঁচটি বড় মোটিফ—মোরগ, বেহালা, শান্তির পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ পটচিত্র শোভাযাত্রায় যোগ করে ভিন্নমাত্রা।

দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে আয়োজনটি বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উঠে আসে। গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা ফুটে ওঠে বিভিন্ন শিল্পকর্মে।

ইউনেস্কো স্বীকৃত এই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে চারুকলা এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

শোভাযাত্রাকে ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুধু একটি উৎসব নয়—এটি হয়ে উঠেছে বাঙালির সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রদর্শনী, যা দেশ-বিদেশের মানুষের মনে দাগ কেটেছে।