


ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই) নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন তিন-ভাষা নীতি চালু করতে যাচ্ছে, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবে তৃতীয় ভাষার জন্য দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় আলাদা পরীক্ষা থাকবে না। এটি স্কুল পর্যায়ে অভ্যন্তরীণভাবে মূল্যায়ন করা হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এবং এনসিএফ-এসই ২০২৩-এর নির্দেশনা অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিবিএসই ৫ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নবম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে, যার মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা অবশ্যই ভারতের নিজস্ব বা স্থানীয় ভাষা হতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন শুধু স্কুলভিত্তিকভাবে করা হবে এবং এর ফলাফল চূড়ান্ত সনদে উল্লেখ থাকবে, তবে এটি দশম শ্রেণির মূল বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, সিবিএসই অনুমোদিত ৪৪টি ভাষার তালিকা থেকে স্কুলগুলো ভাষা নির্বাচন করতে পারবে। যদি কোনো স্কুল প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ভারতীয় ভাষা নির্বাচন করে, তাহলে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বিদেশি ভাষা যেমন ফ্রেঞ্চ বা জার্মান নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে প্রথম বা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি থাকলে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বিদেশি ভাষা নির্বাচন সীমিত থাকবে। বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ চাইলে তা আলাদা ক্লাব বা অতিরিক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে।
এই নীতিতে ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষার অবস্থান নিয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সিবিএসই তালিকায় হিন্দি, ইংরেজিসহ মোট ৪৪টি ভাষা রয়েছে। ইংরেজিকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হিসেবে ধরা হলেও তৃতীয় ভাষা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ সুবিধা পাবে না। মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় ও ভারতীয় ভাষাগুলোর ব্যবহার ও শেখার গুরুত্ব বৃদ্ধি করা।
দিল্লির একটি স্কুলের অধ্যক্ষ সুধা আচার্য জানিয়েছেন, এই নতুন কাঠামো শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বাড়াবে এবং স্থানীয় ভাষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করবে। তবে নতুন পাঠ্যবই পুরোপুরি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় ভাষার বই ব্যবহার করবে।
সিবিএসই আরও জানিয়েছে, দেশের সব স্কুলকে ৩০ জুনের মধ্যে তাদের তৃতীয় ভাষার তালিকা অনলাইনে আপডেট করতে হবে। এই নতুন নীতি কার্যকর হলে ভারতের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষা শিক্ষার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস