


ঝাড়খণ্ডের চাত্রা জেলায় সোমবার সন্ধ্যায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনা ঘটে সেই সময় যখন বিমানটি রাচি থেকে দিল্লিগামী ছিলেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।
চাত্রার ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি জানিয়েছেন, বিমানটি রাচি বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে উড্ডয়ন করে। প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সিমারিয়ার বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকার ঘন বনাঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিমানটি পরিচালনা করছিল রেডবার্ড এয়ারওয়েস প্রাইভেট লিমিটেড। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, এটি একটি চিকিৎসাসেবা ফ্লাইট ছিল। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি বিচক্রাফট সি-৯০ মডেল (নিবন্ধন ভিটি-এজেভি)। সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতার সঙ্গে শেষ যোগাযোগের পর, বারাণসী থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে রাডার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন দুই পাইলট এবং পাঁচ যাত্রী। তাদের মধ্যে ছিলেন: ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সাভরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, ডা. বিকাশ কুমার গুপ্তা, সচিন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী এবং ধুরু কুমার।
রাচির দেবকমল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী অনন্ত সিনহা জানিয়েছেন, ৪১ বছর বয়সী সঞ্জয় কুমারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল। তিনি ৬৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং পরিবারের তথ্য অনুযায়ী তার অবস্থার গুরুত্বের কারণে সড়কপথে স্থানান্তর সম্ভব ছিল না।
দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হচ্ছিল। রাচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার বলেছেন, খারাপ আবহাওয়া একটি কারণ হতে পারে, তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে। বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে পরীক্ষা করা হবে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসও শোক জানিয়ে স্বচ্ছ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
রেডবার্ড এয়ারওয়েস ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৯ সালে নন-শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়। সংস্থাটির বহরে বর্তমানে ছয়টি বিমান রয়েছে।