


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবারও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই কড়া সতর্কবার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা হবে না এবং এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনেই এই জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে যেকোনো সময় এটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
তিনি আরও জানান, কোনো সামরিক জাহাজ বা শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিশেষ করে লেবাননসহ আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি আর বন্ধ করবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে, যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে সব লেনদেন সম্পন্ন হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ—এমনকি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজও—এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। তবে সামরিক বা নৌবাহিনীর জাহাজ এই অনুমতির বাইরে থাকবে।
সূ্ত্র: সিএনএ