


যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আসন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত আইনসভা নতুন কংগ্রেশনাল মানচিত্র (রিডিস্ট্রিক্টিং) তৈরি করতে পারবে কি না—এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে গণভোট। এ প্রস্তাবের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় নেমেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যা ভোটের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভার্জিনিয়ায় আগামী ২১ এপ্রিল এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, রাজ্যের আইনসভা নতুন করে কংগ্রেশনাল আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে কি না। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক ভিডিও বার্তায় ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত রিপাবলিকানদের অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টা ঠেকাতে সহায়ক হবে এবং এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি সাময়িক পদক্ষেপ।
এদিকে নির্বাচনের আগেই ১০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যা এই গণভোটের প্রতি ব্যাপক আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
প্রস্তাবটি পাস হলে চারটি কংগ্রেশনাল আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে, যা ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০২৫ সালে রিপাবলিকানদের পক্ষপাতমূলক পুনর্বিন্যাসের জবাব হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে রিপাবলিকানরা এটিকে ‘অন্যায্য রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জেন কিগগান্স বলেন, ভার্জিনিয়া একটি বৈচিত্র্যময় রাজ্য এবং একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ায় প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক বিভাজনের চিত্র স্পষ্ট করে।
গণভোট ঘিরে প্রচারণায় অর্থ ব্যয়ের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ। তাদের প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী ক্যারি ওয়াশিংটন ও সংগীতশিল্পী জন লিজেন্ডের মতো তারকারাও।
তবে ডেমোক্র্যাট শিবিরেও মতভেদ রয়েছে। কিছু ভোটার মনে করছেন, নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করা গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের পক্ষে এবং ৪৭ শতাংশ বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গণভোট রিপাবলিকানদের কাছে একটি রাজনৈতিক ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে কৌশলগত ইস্যু হয়ে উঠেছে।