Date: May 02, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা

May 02, 2026 02:16:43 PM   অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা

ওবায়দুল হক বাদল: 
একমাত্র প্রকৃত ইসলামই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে শুক্রবার (১ মে ২০২৬) বিকালে রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) তে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার শ্রমিকদের নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান সময়কে ডিজিটাল দাসত্বের যুগ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অতীতের দাসদের গবাদি পশুর মতো শিকলে বেঁধে রাখা হতো। গরু-ছাগলের মতো চাবুকপেটা করা হতো। হাটে-বাজারে বিক্রি করা হতো। আজ “দাস” শব্দটি ব্যবহৃত হয় না, ঠিকই। কিন্তু তার জায়গা দখল করে নিয়েছে “শ্রমিক”, “কর্মচারী”, “কন্ট্রাক্ট বেসড স্টাফ” ইত্যাদি নাম। দাসত্বের নাম বদলেছে, নিপীড়নের রূপ বদলেছে, কিন্তু দাসত্বের অস্তিত্ব থেকে গেছে।

WhatsApp Image 2026-05-01 at 16.56.09 (1)
হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, বর্তমানের ডিজিটাল দাসত্বব্যবস্থায় অতীদের দাসত্বের রূপের কিছু পরিবর্তন এসেছে মাত্র। বাস্তবতা হলো, অতীতের তুলনায় আজকের শোষণ আরও সুসংগঠিত, আরও পরিপক্ব। আল্লাহর দেওয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে আমরা পশ্চিমাদের তৈরি এমন এক পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে প্রবেশ করেছি, যেখানে সবার উপরে লাভ সত্য। এই শ্রমব্যবস্থায় মানুষ যেন শুধু একেকটি রোবটের ন্যায় উৎপাদনযন্ত্র। আজকের শ্রমিকরা কোনো মানবিক সম্পর্কের অংশ নয়, বরং একটি এক্সেল শিটের সংখ্যামাত্র।

ইসলামের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, আইয়্যামে জাহেলিয়াত ছিল দাসত্বের যুগ। সেই সমাজে দাসদের কোনো অধিকার ছিল না, তারা ছিল মনিবদের সম্পদ, প্রোপার্টি। আল্লাহর রসুল (সা.) এই দাসত্বব্যবস্থাকে উৎখাত করার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি এমন কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন যা ইতিহাসে বিরল। তিনি দাস যায়েদ বিন হারিসাকে (রা.) আযাদ করে তাঁকে নিজের পুত্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমনকি তিনি তাঁর সাহাবিদের বলেছিলেন, ‘তোমরা তাদের দাস বলো না, বরং আমার ছেলে অথবা আমার মেয়ে বলে সম্বোধন করো।’  

WhatsApp Image 2026-05-01 at 16.56.08
শ্রমিকদের অধিকারের ব্যাপারে ইসলামের নীতিমালা তুলে ধরে এমাম সেলিম বলেন, শ্রমিকদের অধিকারের ব্যাপারে রসুল (সা.) এর নির্দেশ ছিল, শ্রমিকের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই তার মজুরি পরিশোধ করার। রসুল (সা.) হুঁশিয়ার করে বলেছেন ‘আমি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী হবো, যে একজন শ্রমিক নিয়োগ করল এবং তার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও তার পারিশ্রমিক দিল না।’ তিনি শুধু উপদেশ দিয়েই খান্ত হননি। আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করেছিলেন, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি অহঙ্কারি কোরায়েশদের আভিজাত্যকে পদদলিত করে অর্ধনগ্ন ক্রীতদাস বেলালকে কাবার ঊর্ধ্বে উঠিয়ে বিশ্ববাসীর জন্য বার্তা দিয়ে গেছেন- মানুষ ঊর্ধ্বে, মানবতা ঊর্ধ্বে।

ইসলামী শ্রমব্যবস্থা ও চলমান শ্রমব্যবস্থার পার্থক্য তুলে ধরতে গিয়ে হেযবুত তওহীদের এই নেতা বলেন, মালিকরা শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি দেওয়া তো দূরে থাক, মাসের পর মাস তাদেরকে অর্ধেক বেতনে, কখনও বিনা বেতনে শ্রম দিতে বাধ্য করে। মৌলিক চাহিদা মেটানোর ন্যূনতম অর্থও হাতে না থাকায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়। কিছুদিন পরপরই নানা দাবিতে রাস্তায় নামতে হয় তাদের। পুলিশের পিটুনি খেতে হয়। প্রতি ঈদের আগে বেতন বোনাসের জন্য রাস্তায় নামা পরিচিত সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বহু সংস্থা করা হয়েছে। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ এই শ্লোগান দিয়ে, শ্রমিকদের স্বর্গ প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে বিশ্বের বহু দেশে মার্কসবাদের চর্চা করা হয়েছে। ভালো উদ্যোগ। কিন্তু ফলাফল কি? এসব করে তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়েছে? হয়নি। বরং শ্রমিকরা দিন দিন আরো অধিকারহারা হচ্ছে। নতুন নতুন বিচিত্র রকমের নিয়মের বেড়াজালে পড়ে দাসত্ব করতে বাধ্য হচ্ছে -বলেন তিনি।

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য ইসলামের মত সুমহান আদর্শ, সেই সিস্টেম, সেই জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে আমরা মানুষের তৈরি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের মধ্যে মুক্তি খুঁজছি, অধিকার খুঁজছি!  

ইসলামী নীতি অনুযায়ী তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শ্রমব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ইসলামের রাষ্ট্রব্যবস্থা শ্রমিকদের প্রতি জোর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম আদায়ের সব পথ বন্ধ করবে। প্রতিটি শ্রমিক তার শ্রমের পরিমাণ অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত পারিশ্রমিক পাবেন, যা তার কর্মস্পৃহা ও কর্মসন্তুষ্টি  নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্র তাদের শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাতে তারা একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। মালিকদের নিয়োজিত পুলিশের গুলি খেয়ে আর কোনো শ্রমিককে প্রাণ হারাতে হবে না।

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতে তিনি সরকারের প্রতি কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেন। প্রস্তাবনাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো- ডাটাবেইজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের সকল শ্রেণির শ্রমিককে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করে শ্রম আইন ও বিধিমালা দ্বারা অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা; শ্রমিকের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা; গৃহকর্মীদেরও পূর্ণ স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা; পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও মজুরি নির্ধারণে বৈষম্য পরিহার করা; কর্মস্থলে শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; নারী শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা, সমান সুযোগ এবং সমমজুরি নিশ্চিত করা; শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও কর্মশালার আয়োজন করা; দৈনিক কর্মঘণ্টা ও ছুটি নির্ধারণ করা এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা; শ্রমিকদের আইনী সহায়তা প্রদান করতে শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা করা।

এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী বিভাগের প্রধান রুফায়দাহ পন্নী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা, ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন রব্বানি, যুগ্ম নারী সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা, ঢাকা বিভাগীয় নারী সম্পাদক তাসলিমা ইসলাম প্রমুখ।