


২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। হামলার শুরুতেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে দ্রুতই এক বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। আর তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষের কোন নাম নেই। বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের নতুন নেতৃত্বের মধ্যে কোনো যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হলেও যে কোনো মুহূর্তে আবার হামলা শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকের ‘সিটজক্রিগ’ (ঝরঃশৎরবম) বা ‘বসে থাকার যুদ্ধের’ সঙ্গে তুলনা করছেন। ঠিক তখনকার মতো একটি অদ্ভুত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে- যেখানে যুদ্ধ শেষ হয়নি, অস্থিরতাও কিংবা উত্তেজনা কাটেনি।
ধসে পড়ার পথে বিশ্ব অর্থনীতি
ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে এই জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অপরিশোধিত ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ।
জ্বালানি সংকটের এই ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির ভিত নড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে, যা জানুয়ারির পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কম। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গুরিনচাস সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পূর্বাভাসটির আগে ধরে নেওয়া হয়েছে যে, ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি বাজার আবার স্থিতিশীল হবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে। যদি সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হয় তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ‘অ্যাডভার্স সিনারিও’র (অফাবৎংব ঝপবহধৎরড়) দিকে চলে যেতে পারে। আরও ভয়াবহ তথ্য দিয়েছে রাবোব্যাংক (জধনড়নধহশ)। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি গড়ে ৩.১ শতাংশে পৌঁছাবে এবং প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে মাত্র ০.৬ শতাংশে।
তাছাড়া, বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম গড়ে ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে। আর এর ফলে বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আইএমএফ তাদের ২০২৬ সালের উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ করেছে, যা আগের থেকে ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য হ্রাস। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবহার করে থাকে বলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চরম মূল্যস্ফীতি ও মন্থর প্রবৃদ্ধির ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ (ঝঃধমভষধঃরড়হ) সম্মুখীন হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জার্মানি আগামী বছরের আগে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অর্ধেকে নামিয়ে এনে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে, যেখানে ফ্রান্সের অর্থনীতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে কয়েক মাস ধরে চলা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইউরোপের শিল্প উৎপাদন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি ও রেমিট্যান্স সংকট
হরমুজ দিয়ে যাওয়া তেলের ৮৪ শতাংশই যায় এশিয়ায়, তাই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সরাসরি আঘাত পেয়েছে। এখানে রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) মারাত্মক হুমকির মুখে। ২০২৫ সালে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাওয়া ভারতে এখন এই খাতে সংকট দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণশিল্প স্থবির হয়ে পড়ায় লক্ষ লক্ষ দক্ষিণ এশীয় শ্রমিক বেকার হওয়ার পথে। জীবনযাত্রার ব্যয় লাফিয়ে বাড়ায় পাকিস্তান সরকারি অফিসের সপ্তাহ কমিয়ে চার দিন করেছে। আর বাংলাদেশে আমদানি করা গম, ভোজ্যতেল ও সারের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি সংক্ষিপ্ত করেছে। বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, যুদ্ধের কারণে চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম গড়ে ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে। ইউএনডিপি জানিয়েছে, এর প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৩২ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যার মধ্যে ৮৮ লাখই এশিয়া অঞ্চলের।
হরমুজের বন্দুক: ইরানের নতুন শক্তি?
এই যুদ্ধ ইরানের জন্য এক অনন্য কৌশলগত অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে। দুর্বল হয়েছে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। কিন্তু শক্তিশালী হয়েছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা। বিদেশি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষকরা দেখিয়েছেন, এমনকি ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকলেও তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যতটা লেভারেজ (ষবাবৎধমব) তৈরি করতে পারত, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সামর্থ্য তার চেয়েও বেশি কার্যকর লেভারেজ হিসেবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ জারি করলেও ইরানের তেলমন্ত্রী মহসিন পাকনেজাদ দাবি করছেন, তাদের জ্বালানি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে ইরান যতক্ষণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখবে ততক্ষণ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়তেই থাকবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু করা হবে না। ইরান নিজেও এক ধরনের ‘অবরোধের খেলায়’ জড়িয়ে পড়েছে। একদিকে তাদের নিজস্ব তেল রপ্তানি মার্কিন অবরোধের মুখে অন্যদিকে বিশ্বের শিরদাঁড়া হরমুজ বন্ধ করে তারা বিশ্ব শক্তিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যদিও ইরানের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রিয়ালের মান রেকর্ড পরিমাণ কমেছে এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও বেকারত্ব বাড়ছে। ইরান তাদের তেল সম্পদ মজুদের ভান্ডারও ভরে যাচ্ছে। এর ফলে ইরানেকে তেল হয়তো তেল উৎপাদন কমাতে হবে কিংবা তেল রপ্তানির জন্য বিকল্প পথ ও মুদ্রার দিকে ঝুঁকতে হবে।
ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ
এই যুদ্ধ বিশ্ব ক্ষমতার পাল্লাও বদলে দিতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে মুখ সরিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগ দেবে। কিন্তু দুই মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে তারা ঠিক উল্টো কাজ করছে। পেন্টাগনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
এই সুযোগে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে চীন ও রাশিয়া। চীন ও রাশিয়া উভয়ই ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়া আক্রমণটিকে ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াংই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চীন ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন জানায় এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। এপ্রিলের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে জমজমাট কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সবাই বেইজিংয়ে বৈঠক করেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও রাশিয়া কখনোই ইরানের হয়ে ‘বুলেট খেতে’ যাবে না। তাদের প্রকৃত লক্ষ্য হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়কারী সংঘাত তৈরি করা যা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যস্ত রাখবে, ইউরোপের ও এশিয়ার দেশগুলোর নির্ভরতা নিজেদের দিকে টানবে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন আবারও সেই কূটনৈতিক খেলা খেলছেন- একদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছেন, অন্যদিকে পশ্চিমাদের ওপর ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে যুদ্ধ বন্ধে তিনিও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
ভারতও এই যুদ্ধে কঠিন অবস্থানে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সংঘাতকে ভারতের সামনে ‘অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একদিকে জ্বালানি ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি থাকায় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পশ্চিমা জোটের ভিতরেও দেখা দিয়েছে ফাটল। এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলায় অংশ নেয়নি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ‘উত্তেজনা বাড়া সবার জন্যই বিপজ্জনক। একে থামতেই হবে’। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকি বলে অভিহিত করে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান এই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন “ঘড় সড়ৎব গৎ. ঘরপব এুঁ”। তিনি দাবি করেছেন ইরান পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে না আসলে এই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান যদি আবারও হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তবে তারা পুনরায় সামরিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
তাহলে যুদ্ধ শেষ কোথায়?
ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই বিপর্যস্ত। ইরানের উপ-শ্রমমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে অন্তত ১০ লাখ মানুষ সরাসরি চাকরি হারিয়েছে। দুই মাসের যুদ্ধে অন্তত ১ হাজার ৯০০ ইরানি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ২০ হাজার মানুষ। ইরানের এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য মন্দার ইঙ্গিত। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ও অভন্তরীন পরিবহন ভাড়া বাড়ছে।
ইরানে মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে স্থায়ী নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সীমিত না হলে চুক্তি করা যাবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের নতুন নেতৃত্বও নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
এই যুদ্ধ নিঃসন্দেহে বিশ্ব ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট। বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে। বিশ্বের শিল্পকারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন কত দ্রুত থমকে যেতে পারে, তা আমরা এখন প্রত্যক্ষ করছি। ভবিষ্যতে কোনও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা আরও প্রকট হয়ে উঠবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সরাসরি বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ যুদ্ধবিরতির কারণে কিছুটা কম হলেও কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবার ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।