


টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওর অঞ্চল ব্যাপকভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১৫শ বোরো চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টি থেমে সূর্যের দেখা মেলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে, আর আশার আলো দেখছেন তারা।
বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন বোরো ধান চাষিরা, যাদের অনেকেই ঠিক এই সময়টাতেই ফসল কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের পরিশ্রম যেন এক মুহূর্তেই হুমকির মুখে পড়ে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ বিঘা জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩৭৫ বিঘা জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর প্রায় ৯৩.৭৫ বিঘা জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও নতুন করে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং রোদ উঠায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, ফলে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই আগেভাগে ধান কেটে জমিতে গাদা করে রেখেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সেই ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছিল না, ফলে পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে রোদ ওঠায় সেই আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে নতুন করে আরেকটি সমস্যার মুখে পড়েছেন তারা—ফসল কাটার জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টারের ভাড়া বেড়ে গেছে, যা তাদের আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি, প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এখন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারিভাবে প্রণোদনার আওতায় এনে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হলেও, আবহাওয়ার উন্নতি কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন দ্রুত পানি নেমে যাওয়া এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার ওপরই নির্ভর করছে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা।