Date: February 01, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রংপুর / দম্পতিকে জিম্মি করে নির্যাত, ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ‘জঙ্গি মামুন’ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

দম্পতিকে জিম্মি করে নির্যাত, ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ‘জঙ্গি মামুন’

January 31, 2026 05:49:54 PM   উপজেলা প্রতিনিধি
দম্পতিকে জিম্মি করে নির্যাত, ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ‘জঙ্গি মামুন’

নীলফামারীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এক দম্পতিকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, মারধর, শ্লীলতাহানি এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃত মো. মামুন শেখ (২৫) এলাকায় ‘জঙ্গি মামুন’ ও ‘ভাইরাল মামুন’ নামে পরিচিত। তিনি সদর উপজেলার ইটাখোলা মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার চড়াইখোলা বটতলী বাজারের পশ্চিম পাশের কবরস্থান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে তাপস রায় (২২) তার স্ত্রী আশা রায়কে (১৯) নিয়ে নীলফামারী শহরের বড় মাঠের পূর্ব পাশে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় মামুন ও তার সহযোগীরা তাদের ঘিরে ধরে জিম্মি করে এবং ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বখাটেরা তাপস রায়কে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারে। তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে টানাহেঁচড়া করা হয়।

অভিযুক্তরা পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে চাঁদা না পেয়ে ভুক্তভোগীদের সামাজিকভাবে হেয় করতে ভিডিওটি ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওটি ভাইরাল হলে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নীলফামারী পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতলুবর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং এসআই রাসেল শেখের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাতে প্রধান আসামি মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন স্বীকার করেছে, সে ও তার চক্র দীর্ঘদিন ধরে বড় মাঠে আসা দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ব্ল্যাকমেইলিং করে আসছিল।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মামুনের বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় একটি মামলা (নং-৪২, তারিখ-৩০/০১/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৫০৬/৩৪ ধারা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩)-এর ১০ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৫(১) ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।