


বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বান্দরবন থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে বান্দরবন সদর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।
সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি একটি ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে অশ্লীল বা পর্ন কনটেন্ট আপলোড করতেন। তাদের পরিচালিত চ্যানেলটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্ন সাইটে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসে। তারা বাংলাদেশে বসেই ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও আপলোড করতেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছিলেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এ দম্পতি কেবল নিজেরাই পর্ন কনটেন্ট তৈরি করতেন না—বরং অন্যদেরও একই ধরনের কাজে উদ্বুদ্ধ করতেন। ফলে বাংলাদেশে বসে পর্ন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি কেবল পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন নয়; বরং এটি সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুতর অপরাধ।” তিনি জানান, বাংলাদেশে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ দণ্ডনীয় অপরাধ—যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট-এর প্রকাশিত একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনের মাধ্যমে। সেখানে উক্ত দম্পতির ওয়েবসাইট পরিচালনা, কনটেন্ট তৈরির ধরন এবং আর্থিক লেনদেনের বিশদ তথ্য তুলে ধরা হয়। সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই সিআইডি তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে।
বর্তমানে দম্পতির ব্যাংক হিসাব, অনলাইন ওয়ালেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, তাদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা অনুসন্ধান করছে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি শুধু অনৈতিক কাজের বিষয় নয়—বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা গড়ে তোলার উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।