


সিগারেট খাওয়া হালাল নাকি হারাম—এই প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ এক ওয়াজ মাহফিলে এই বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইসলামে যে জিনিস খাওয়া, পান করা বা ব্যবহার করা হারাম, তা বেচাকেনাও হারাম। অর্থাৎ, কোনো কিছু যদি শরিয়ত অনুযায়ী নাজায়েজ হয়, সেটি কেনা-বেচা করাও বৈধ নয়।
আহমাদুল্লাহ উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন দোকানদার যদি নামাজি, সৎ ও পরহেজগার হন—নিজে সিগারেট না খান, তার পরিবারও না খায়—তবুও যদি তিনি দোকানে সিগারেট বিক্রি করেন, তাহলে সেই উপার্জন হালাল হবে না। তবে দোকানে অন্য বৈধ পণ্য যেমন চাল, ডাল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি করলে সেই আয় হালাল থাকবে। শুধু সিগারেট বিক্রির অর্থই হবে হারাম।
অনেকেই বলেন, সিগারেট বা বিড়ি ছাড়া দোকান চালানো কঠিন। এ প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এটাই তো প্রকৃত পরীক্ষা ও ত্যাগের জায়গা। যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই ব্যবসা থেকে বিরত থাকে, তবে সাময়িকভাবে আয় কমতে পারে, কিন্তু সেই ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাতের আশা করা যায়। তিনি বলেন, “আমি একটু কম খাব, কিন্তু হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকব—এই মানসিকতাই একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, ধূমপান শুধু পাপ নয়, বরং এটি সমাজে ভয়ংকর রোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষ রয়েছে, যার অন্যতম কারণ ধূমপান। কেউ যদি সিগারেট বিক্রি করে, তাহলে সে নিজে না খেলেও, অন্যের ক্ষতির অংশীদার হয়ে যায়। কারণ সে এমন এক জিনিস বিক্রি করছে যা মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়, পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়।
শেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ সবাইকে আহ্বান জানান, “সৎসাহস রাখুন, এসব ক্ষতিকর ও হারাম জিনিসের বিক্রি বন্ধ করুন।” তিনি বলেন, এতে হয়তো কিছু আয় কমবে, কিন্তু হৃদয়ের শান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে। “ক্যানসারের আইটেম বিক্রি না করে যদি একটিমাত্র মানুষকেও রক্ষা করা যায়, তবেই সেটা বিশাল সওয়াবের কাজ।”