


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে ঘিরে নতুন করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়—একজন বয়স্ক ব্যক্তি এক তরুণের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পালাচ্ছেন। তরুণটি তখন দৌঁড়ে গিয়ে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার কাছে সাহায্য চান। তিনি বলেন, “ভাই, এই লোক আমার মোবাইল কেড়ে নিয়েছে, কিছু একটা করেন।” জবাবে সর্বমিত্র চাকমা হাসতে হাসতে বলেন, “মুরব্বী মানুষ যা করেছেন, ভালো করেছেন। সিনিয়র সিটিজেন, তাদের সম্মান জানানো উচিত।”
এই বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়তেই ভিডিওটি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। কেউ সর্বমিত্রের মন্তব্যকে ‘অমানবিক’ ও ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে ‘ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামি ভিডিওটি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন,
“অনেক চেষ্টা করেছি ‘WOKE’ দের আক্রমণের ভয়ে শেয়ার না দিতে। কিন্তু পারলাম না! ভাই, এটা কী ছিলো?”
তার এই মন্তব্য নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে নতুন আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মোনামির অবস্থানকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে সমালোচনা করেছেন।
এর আগে থেকেই সর্বমিত্র চাকমা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ও আশপাশের এলাকায় ডাকসুর সদস্যদের নেতৃত্বে চলছে ‘উচ্ছেদ অভিযান’। তাদের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ক্যাম্পাস থেকে অবৈধ দোকান, ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্তদের সরানো। তবে অভিযানের সময় মারধর, হেনস্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।
প্রথমদিকে এ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুয়ায়ের, পরে দায়িত্ব নেন সর্বমিত্র চাকমা। এর মধ্যেই লাঠি হাতে এক বৃদ্ধকে শাসানোর আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সর্বমিত্রকে ঘিরে সমালোচনা আরও বেড়ে যায়।
সব মিলিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সর্বমিত্র চাকমা ও মোনামি শিক্ষিকার মন্তব্য নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় বইছে। কেউ একে ছাত্রনেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলছেন, আবার কেউ বলছেন—এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্ররাজনীতির এক বিকৃত চিত্র।