


অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বই প্রকাশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৮৭ পৃষ্ঠার বইটিতে সরকারের গৃহীত প্রধান প্রধান সংস্কার উদ্যোগের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশ তখন গভীর অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের মুখে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে।
আইনগত সংস্কারের ক্ষেত্রে গত ১৮ মাসে সরকার নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরোনো আইন সংশোধনসহ প্রায় ১৩০টি আইন পাস করেছে। একই সময়ে নেওয়া হয়েছে ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত, যা প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব উদ্যোগের প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা কেবল ঘোষণাভিত্তিক পরিবর্তন নয়, বরং বাস্তব ও দৃশ্যমান সংস্কারের প্রতিফলন বলে দাবি করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার প্রসঙ্গে বইটিতে বলা হয়েছে, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এক হাজার ২০০-এর বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে র্যাব পুনর্গঠন করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ রাখা হয়েছে, যাতে বাহিনীর কার্যক্রমে নতুন কাঠামো ও নীতিগত পরিবর্তন আনা যায়।
বইটিতে সামগ্রিকভাবে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগগুলো রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, প্রশাসনে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। বইটি সরকারের গত দেড় বছরের সংস্কার কার্যক্রমের একটি নীতিনির্ভর দলিল হিসেবেই প্রকাশ করা হয়েছে।