


মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অবরোধ ও কঠোর অবস্থানকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই প্রতিক্রিয়া এমন সময় এসেছে যখন হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানি জাহাজের চলাচল সীমিত করা হলে তা সামরিকভাবে প্রতিরোধ করা হতে পারে, এমনকি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার মতো হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
চীন জানায়, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি চীনা তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। এতে অঞ্চলটিতে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধমূলক অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। রিয়াদ আশঙ্কা করছে, ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় সংকট তৈরি করবে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আবারও ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারেন। এর আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
এছাড়া দীর্ঘদিন পর সরাসরি আলোচনায় বসেছে লেবানন ও ইসরায়েল, তবে এই আলোচনা থেকেও বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যদিও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর