


জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটে জর্ডানপ্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা-কাটাকাটির জেরে ক্ষোভ ও অভিমানে নিজের গোপনাঙ্গ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সাকিব (২৫) নামে এক যুবক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার বিল্লার দরগা গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে এ রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। পেশায় রংমিস্ত্রি সাকিব ওই গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে পাশের ছোট মাঝিপাড়া গ্রামের তরুণী সুইটির (২০) সঙ্গে সাকিবের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বছরখানেক আগে স্ত্রীকে জর্ডানে পাঠান সাকিব। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ, দূরত্ব ও মনোমালিন্য বাড়তে থাকে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, শনিবার দুপুরে সাকিব তাঁর শয়নকক্ষে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে চরম মানসিক অস্থিরতা ও অভিমান থেকে ধারালো কিছু দিয়ে নিজের গোপনাঙ্গ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সাকিব। এ সময় তাঁর আত্মচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
সাকিবের বড় চাচি নিলুফা বিবি বলেন, "দুপুরের দিকে হঠাৎ সাকিবের চিৎকার শুনে আমরা দৌড়ে যাই। ঘরে গিয়ে দেখি সে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে জানতে পারি, স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরই ক্ষোভে সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে।"
সাকিবের ফুফু খোতেজা বেগম জানান, সাকিব খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে। সংসারের উন্নতি ও অভাব ঘোচাতেই স্ত্রীকে বিদেশে পাঠিয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
প্রতিবেশী হাফিজুল ইসলাম বলেন, "আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এমন ভয়াবহ ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি।"
এ বিষয়ে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, "রোগীকে মুমূর্ষু ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়া অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষত ছিল। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।"