


পুলিশের কার্যক্রম, তদন্ত ব্যয় এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একজন পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য শুনে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্টে বর্তমান ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তার মতে, পুলিশের বাস্তব চিত্র না বদলালে দুর্নীতি ও অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে।
সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি পুলিশ তদন্ত, বাজেট বরাদ্দ, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম এবং প্রশাসনিক চাপ নিয়ে বিস্তারিত মতামত দেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন-যে স্বাধীনতা ও সুরক্ষার দাবি পুলিশের জন্য করা হচ্ছে, সেটি অর্জনে বাহিনী নিজে কতটা প্রস্তুত।
হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি বলেছিলেন পুলিশকে “ম্যানেজ” করার সংস্কৃতি থেকেই দুর্নীতির জন্ম হয়। পরবর্তীতে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তথ্য জানার পর তিনি বুঝতে পারেন, এই ম্যানেজ সংস্কৃতি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতারই ফল।

তার পোস্টে উঠে আসে তদন্ত ব্যয়ের অপ্রতুলতার বিষয়ও। তিনি উল্লেখ করেন, খুন ও ডাকাতির মতো গুরুতর মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের জন্য যথেষ্ট নয়। একইভাবে অর্থ পাচারের মতো জটিল মামলার জন্য মাত্র ৩ হাজার টাকার বরাদ্দ থাকায় তদন্ত কার্যক্রম কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আদালতে যাতায়াত, সাক্ষ্য প্রদানসহ তদন্ত সংক্রান্ত খরচ পুলিশ সদস্যদের নিজেদেরই বহন করতে হয়। এতে করে নিম্নপদস্থ কনস্টেবল, এএসআই বা এসআইদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়, যা অনৈতিক উপায় অনুসরণের ঝুঁকি বাড়ায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের পরও অনেক সময় ওভারটাইম সুবিধা পাওয়া যায় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু আশ্বাস নয়, এর বাস্তব বাস্তবায়ন জরুরি।
হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের কর্মপরিবেশ, সাপ্তাহিক ছুটি এবং মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ছুটি পেলেও পুলিশ সদস্যরা প্রায়ই সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
তার মতে, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য পুলিশের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। বর্তমানে অনেকেই বিপদে পড়েও পুলিশের কাছে যেতে দ্বিধা করেন, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে এমন একটি পরিবেশে কাজ করতে হবে যেখানে তারা আইনবহির্ভূত নির্দেশ “না” বলতে পারে। অনেক সময় প্রভাবশালী মহল বা ব্যক্তির চাপের কারণে পুলিশকে বেআইনি কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য তিনি আইনি সুরক্ষা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
পোস্টের শেষ দিকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন-যেভাবে পুলিশের জন্য স্বাধীনতা, সুরক্ষা ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি উঠছে, পুলিশ বাহিনী নিজে কি সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত? এই প্রশ্নই এখন সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।