


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকতের পরিবার এখনও বিচার ও ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার দিনে শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী সাংবাদিকদের জানান, তারা শুধু রায়েই সন্তুষ্ট নন—তাদের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে জনসম্মুখে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সেবন্তী বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশেই তার ভাইসহ অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। “তাকে দেশে এনে জনসম্মুখে ফাঁসি দেওয়া হোক”—এটাই তাদের পরিবারের প্রধান দাবি। তিনি আরও বলেন, “আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব, যতক্ষণ পর্যন্ত তার শেষ না দেখি। কারণ আমাদের ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা পূর্ণরূপে চাই।”
শহীদ সৈকতের পরিবার মনে করে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এতটাই ভয়াবহ যে কয়েকবার মৃত্যুদণ্ড হলেও তা তার পাপের শাস্তি পূর্ণ করতে পারবে না। তবে তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলেন, আদালত যেটাকে ন্যায়বিচার মনে করবেন, তারা সেটাই মেনে নেবেন।
সেবন্তী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা নিজের অপরাধের গভীরতা জানেন বলেই দেশে ফেরার সাহস পাচ্ছেন না। “তার যদি সৎ সাহস থাকতো, তবে সে দেশে এসে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতো,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
গত বছরের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত হন সৈকত। আন্দোলনের মুখে সরকার পরিবর্তনের পর সৈকতের বাবা মাহাবুবের রহমান ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকারের শীর্ষ মন্ত্রী এবং দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়।
সৈকতের পরিবারের দাবি, ন্যায়বিচারের এই লড়াই তারা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন—যতক্ষণ পর্যন্ত হত্যার নির্দেশদাতাদের শাস্তি নিশ্চিত না হয়।