


উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের একাধিক জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা উপকূল ও স্থলভাগ উভয় এলাকাতেই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সতর্কতার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে যাত্রা এড়িয়ে চলার জন্য জেলেদের সতর্ক করা হয়েছে, কারণ বাতাসের চাপের তারতম্যের কারণে সমুদ্র আরও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ আবহাওয়াতেও ঝড়ের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে ঢাকাসহ মোট ১৩টি জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তিত হয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঝড়ের তীব্রতার ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় আলাদা সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা, টাঙ্গাইল, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নৌযান ও সাধারণ জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া সমুদ্রে ও খোলা স্থানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।